নাম 'ঢেঁড়স'। কিন্তু গুণে অসীম। খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে ডাল-ভাতে এক টুকরো লেবু। আর দু’টো ভাজা ঢেঁড়স। স্বর্গীয় তৃপ্তি। কিন্তু সেই চেনা সবজিই এখন রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে সোজা ঢুকে পড়েছে রূপচর্চার ড্রইংরুমে। আজ্ঞে হ্যাঁ! চোখ কপালে তোলার কিছু নেই। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া নানা টোটকায় মজেছে নেটপাড়া। কেউ কাঁচা ঢেঁড়স কুচিয়ে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মাখছেন। কেউ আবার তার আঠালো রস মুখে লাগিয়ে দাবি করছেন, বয়েস নাকি কমে গিয়ে হবে ষোলো। এত জেল্লা যে ধরে রাখা দায়! এমন চমকপ্রদ তথ্য আগে কেন জানা যায়নি? সত্যি কি ঢেঁড়স মাখলে ত্বকের জেল্লা ফেরে? নাকি সবটাই হুজুগ? আসল সত্যিটাই বা কী?
ছবি: সংগৃহীত
আজকাল ঘরোয়া উপাদানে রূপটানের ঝোঁক বাড়ছে। নেটপ্রভাবীদের দাবি, কুচোনো ঢেঁড়সের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে মুখে মেখে ২০ মিনিট রেখে দিলে ম্যাজিক ঘটবে। সপ্তাহে দু’বার এই প্যাক ব্যবহার করলে নাকি বলিরেখা উধাও হয়। এমনকী ঝুলে যাওয়া চামড়া টানটান করতেও নাকি এর জুড়ি মেলা ভার। ব্রণের সমস্যা মেটানো থেকে ত্বকের কালচে ছোপ দূর করা— সবকিছুর দাওয়াই এখন এই সবুজ সবজি।
ছবি: সংগৃহীত
দই বনাম ঢেঁড়স
ত্বকের পরিচর্যায় দইয়ের কার্যকারিতা বিজ্ঞানসম্মত। দইয়ের ল্যাক্টিক অ্যাসিড প্রাকৃতিক ক্লিনজ়ার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে এবং রোদে পোড়া ভাব দূর করে। জ়িঙ্ক ও ক্যালশিয়ামের গুণে ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হয়। অন্যদিকে, ঢেঁড়স পুষ্টিগুণে ঠাসা। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি, কে এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ফাইবার সমৃদ্ধ এই সবজি হজমশক্তি বাড়াতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অদ্বিতীয়। নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, যার প্রভাব পরোক্ষভাবে ত্বকেও পড়ে।
ছবি: সংগৃহীত
পাতে অমৃত বটে, ত্বকে বিষ?
তবে পাতে যা অমৃত, ত্বকে তা বিষও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি ত্বকে ঢেঁড়স মাখলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কাঁচা সবজির শক্ত ফাইবার স্পর্শকাতর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এর আঠালো রস থেকে মারাত্মক অ্যালার্জি বা র্যাশ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া, ঢেঁড়স মাখলে বয়স কমে যাওয়ার সপক্ষে এখনও কোনও জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।
আসল কথা হল, ত্বকের জেল্লা আসে ভেতর থেকে। ঢেঁড়স খাওয়ার টেবিলেই বেশি শোভা পায়। সুষম আহারে এই সবজি রাখলে শরীর সুস্থ থাকবে, আর শরীর সুস্থ থাকলে ত্বকও স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল হবে। তাই সমাজমাধ্যমের চলতি ট্রেন্ডে গা ভাসানোর কোনও প্রয়োজন নেই। প্রলুব্ধ হয়ে ত্বকের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আগে সাবধান হোন। জেল্লা ধরে রাখতে ঢেঁড়স মাখা নয়, বরং খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
