ব্যস্ততায় মোড়া জীবন। নিজের দিকে তাকাবার সময় কই? হঠাৎ একদিন আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। আর তাতেই আঁতকে উঠলেন। কেন? কারণ, চোখের তলায় কালচে ছোপ ছোপ দাগ ভরে গিয়েছে। এতদিন নজরে পড়েনি! চোখের উপরে ও নীচে পাতলা চামড়ায় গাঢ় ছোপ। মুখ যতই সুন্দর হোক না কেন, এমন চোখের কালিতে সমস্ত সৌন্দর্যই নষ্ট হবার জোগাড়। দারুণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন আপনি। ভাবলেন, বাজারের দামি ক্রিম ব্যবহার করলেই সমস্যা মিটবে। চটজলদি করলেনও তাই। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হল না। এসব ক্ষেত্রে হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। আর হলেনও তাই। তবে, খামোকা চাপ নেওয়ার কিছু ঘটেনি। নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনার মুশকিল আসান হবে ঘরোয়া টোটকায়। কীভাবে? জেনে নিন।
ফাইল ছবি
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ল্যাপটপ, মোবাইল বা টিভি ছাড়া একদিনও চলা দায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের নীল আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে চোখের নিচের পাতলা চামড়ায়। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে সেখানে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। ফলে দেখা দেয় ডার্ক সার্কেল। এই সমস্যা দূর করতে কফি ও মধুর মিশ্রণ ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
কীভাবে প্যাক তৈরি করবেন?
এক চামচ কফি পাউডারের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। কফি ত্বকের ফোলাভাব কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। হলুদে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরায়। এই মিশ্রণে যোগ করতে হবে এক চামচ কাঁচা দুধ এবং এক চামচ মধু। কাঁচা দুধ ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। অন্যদিকে মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে চামড়াকে নরম রাখে। সব কটি উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে একটি মসৃণ প্যাক তৈরি করে নিন। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণটি যেন খুব বেশি পাতলা না হয়।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
চোখের নিচের কালচে জায়গায় আলতো করে এই প্যাকটি লাগান। খেয়াল রাখবেন যেন চোখের ভেতরে ঢুকে না যায়।
প্যাকটি লাগিয়ে অন্তত ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে এলে হালকা গরম জল বা সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন এই ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা জরুরি। নিয়মিত ব্যবহারে চোখের তলার চামড়া টানটান হয় এবং কালচে ভাব ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও চোখের যত্নে এই সামান্য সময়টুকু দিলে ডার্ক সার্কেল বিদায় নেবে চিরতরে। চোখের কোণ আবার হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত।
