জেন জি। আজকের নব্য প্রজন্ম। তাদের মধ্যে স্পষ্ট প্রবণতা, একই পোশাক দু'বার না পরার! সারাক্ষণ তাদের মাথায় ঘোরে ট্রেন্ড। ইন্টারনেট ঘেঁটে দ্রুত তারা নিজেদের তৈরি করে নিতে পারে পার্টির জন্য। এবং সেটা একই পোশাক কোনওভাবেই 'রিপিট' না করে। ফলে বদলে গিয়েছে তাদের শপিং হ্যাবিট। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিরকালই নতুন প্রজন্মের মধ্যে পোশাক নিয়ে নানা নতুন মতামত দেখা যায়। পুরনো ফ্যাশনের নতুন হয়ে ফিরে আসাটাও একটা ব্যাপার। কিন্তু এদেশের জেন জি নাকি সবার আগে খেয়াল রাখে একই পোশাকে দ্বিতীয়বার কোথাও হাজির না হতে। অনেকেই চান ট্রেন্ডের সঙ্গে এলোমেলো কাস্টমাইজেশন মেশাতে। অর্থাৎ যে পোশাক আগেই পরা হয়েছে, তারই একটি অংশের সঙ্গে অন্য পোশাকের একটি মিশিয়ে নিজের মতন করে পরছেন বহু তরুণ-তরুণী... বোঝা দুষ্কর যে এই পোশাক আগেও তিনি পরেছেন।
জেন জি নাকি সবার আগে খেয়াল রাখে একই পোশাকে দ্বিতীয়বার কোথাও হাজির না হতে। অনেকেই চান ট্রেন্ডের সঙ্গে এলোমেলো কাস্টমাইজেশন মেশাতে।
কেবল তাই নয়, এও জানা যাচ্ছে, অনেকেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর মলে গিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ করেন বাকিরা কে কেমন পোশাক পরছেন। এর থেকেই নতুন নতুন আইডিয়া তাঁদের মাথাতে আসে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়ে বলতে গিয়ে এক জেন জি-র প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, ''আমি কোনও গোটা আউটফিটকে রিপিট করতে চাই না। শুনতে যেমনই লাগুক, কেউ একই পোশাকে আমাকে দু'বার দেখবে এটা আমি মানতে পারি না। না রিয়েল লাইফে, না সোশাল মিডিয়ায়।'' আর এই কারণেই প্রতিবারই পোশাকের প্রতিটি পিসের সঙ্গে অন্য পোশাকের একটি পিস মিশিয়ে পরেন তিনি।
এ এক খেলাও বটে। এক তরুণী জানাচ্ছেন, ছোটবেলায় মায়ের ফোন থেকে পুতুলকে নানা রকম পোশাক পরাতেন। এখন নিজেকে সাজান! তাঁর মতে, ''আমি ইনফ্লুয়েন্সার নই। কিন্তু যখন লোকে আমার পোশাকের প্রশংসা করে বুঝতে পারি ট্রেন্ড মেনেই পোশাক পরতে পেরেছি।'' অনেকেই জানাচ্ছেন, নির্দিষ্ট ট্রেন্ডের ধরাবাঁধা ছকে চলতে নারাজ তাঁরা। বরং চলতি ট্রেন্ডকে নিজের মতো করে সামান্য বদলাতে রাজি। তবে যাই হোক, সকলেই কমবেশি জানাচ্ছেন, পোশাক বারবার 'রিপিট' করতে রাজি নন তাঁরা। আর এর ফলে বাড়ছে তাঁদের শপিং খরচ। দেখা যাচ্ছে, অনেকেই (অবশ্য ক্ষমতাসম্পন্ন পরিবারে) মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করছেন শপিংয়ের জন্য! মনে রাখতে হবে, জেন জি এদেশের জনসংখ্যার এক বিপুল অংশ। এহেন পরিস্থিতিতে তাদের ফ্যাশন, ট্রেন্ড আগামিদিনের বস্ত্র বিপণনের দুনিয়ার বিক্রয় কাঠামো, বিজনেস মডেল সবই নির্ধারণ করবে। তাই বিশেষজ্ঞরা নজরে রেখেছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও।
