সকালে ঘুম থেকে ত্বক পরিচর্যা। ঘুমোতে যাওয়ার আগেও নানারকমের ক্রিম, জেলের ব্যবহার। তারপরে আয়নার সামনে দাঁড়ালেই মুখভার। খাটনিই সার। বাড়ছে না ত্বকের ঔজ্জ্বল্য। পরিবর্তে বয়সের তুলনায় বুড়িয়ে যাচ্ছে ত্বক। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারচলতি নানা প্রোডাক্টে রয়েছে হাজারও রাসায়নিক। যা ত্বককে সুন্দর করে তোলার পরিবর্তে বুড়িয়ে দিচ্ছে তাড়াতাড়ি। তাই নানা ভেষজের গুণসমৃদ্ধ আয়ুর্বেদের উপর ভরসা রাখুন। আর হয়ে উঠুন আরও সুন্দর।
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মানা জরুরি। নইলে তা মোটেও কার্যকর ফল দেবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন সামগ্রীর নিত্যদিনের ব্যবহারে ফিরবে রূপের জেল্লা।
ত্বকের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ত্রিফলা। আমলা, বহেড়া এবং হরতকির নিত্যদিনের ব্যবহারে ত্বক হবে আরও সুন্দর।
কীভাবে ব্যবহার করবেন:
আধ গ্লাস হালকা গরম জল নিন। তাতে ৫ থেকে ১০ গ্রাম আমলা পাউডার মেশান। সঙ্গে দিন একচামচ মধু। ভালো করে মিশিয়ে তা খেয়ে নিন। ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এই মিশ্রণ খাওয়ায় ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়বে। ব্রণর সমস্যা থেকেই রেহাই পাবেন।
বাড়ি থেকে বাইরে বেরলেই দূষণের সঙ্গে লড়তে হয় ত্বককে। তার ফলে খানিকটা আগেই বুড়িয়ে যায় ত্বক। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ত্বকের দরকার দূষণরোধী ব্রহ্মাস্ত্রর। রোজকার খাদ্যতালিকা জুড়তে পারেন অশ্বগন্ধা, আমলকি, গুলঞ্চ খেতে পারেন। কিংবা একসঙ্গে এই তিনটি গুঁড়ো মিশিয়ে দই ও মধু দিয়ে ফেসপ্যাক ব্যবহার করে মাখতে পারেন। তাতেও দিব্যি হবে কাজ।
ত্বকের নানারকম সমস্যার সমাধান হতে পারে ঘি। ত্বকের শুষ্কতা দূর পারে ঘি। ঠোঁটফাটা, গোড়ালি ফাটা ম্যাজিকের মতো কমাতে পারে। আবার রোজ মাত্র এক চামচ ঘি খেলে বাড়বে ত্বকের জেল্লাও।
কমপক্ষে সপ্তাহে একদিন অবশ্যই ডিটক্স ওয়াটার খাওয়া প্রয়োজন। তাতে ভিতর থেকে পরিষ্কার হবে ত্বক। আরও সুন্দর হবে উঠবেন আপনি।
সঠিক পরিমাণে জল না খেলেও ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪-৫ লিটার জল পান করুন। তাতে আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। দেহের আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।
নিত্যদিনে কর্মব্যস্ততার ফলে অনেকেই নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করতে পারেন না। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, সুন্দর ত্বক পেতে চাইলে সারাদিনে কমপক্ষে আধঘণ্টা শরীরচর্চা করতেই হবে। কিংবা হাঁটতে হবে।
আর অবশ্যই খাদ্যতালিকায় বেশি তেলমশলাযুক্ত খাবার রাখা যাবে না। তাতে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় ফল রাখতেই হবে।
