কাচের মতো স্বচ্ছ ও দাগহীন ত্বক কার না পছন্দ? বছরখানেক ধরে রূপটান দুনিয়ায় অ্যাসিড বেসড প্রসাধনীর জয়জয়কার। এই তালিকায় ইদানীং সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ‘কোজিক অ্যাসিড’। বিশেষ করে কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রুটিন জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকেই হাইপারপিগমেন্টেশন রুখতে এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কী এই উপাদান আর কেনই বা এটি এত কার্যকর?
জাপানি বিজ্ঞানীরা ১৯০৭ সালে প্রথম এই যৌগটি আবিষ্কার করেন। কোজিক অ্যাসিড মূলত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। ফার্মেন্টেড বা পচানো চাল এবং ‘অ্যাসপারগিলাস ওরিজ়ে’ নামক এক বিশেষ ছত্রাক থেকে এটি পাওয়া যায়। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদনকারী এনজাইম ‘টাইরোসিনেজ’-কে বাধা দেয়, ফলে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ফাইল ছবি
কেন ব্যবহার করবেন?
ত্বকের যত্নে কোজিক অ্যাসিডের বহুমুখী গুণাগুণ রয়েছে।
১. পিগমেন্টেশন দূরীকরণ: রোদে পোড়া দাগ, মেলাজমা কিংবা ব্রণের জেদি দাগ সরাতে এটি অব্যর্থ।
২. অকাল বার্ধক্য রোধ: এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পরিবেশগত দূষণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।
৩. সুরক্ষাকবচ: এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান ত্বকের র্যাশ বা চুলকানি দূর করে এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমায়।
৪. টেক্সচার উন্নত করা: এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে মৃত কোষ সরিয়ে ত্বককে মসৃণ ও প্রাণবন্ত রাখে।
ফাইল ছবি
ব্যবহারের সঠিক কৌশল
১) রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। সিরাম বা ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
২) ম্যাজিকের মতো ফল আশা করবেন না। ত্বকের পরিবর্তন বুঝতে অন্তত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে।
৩) দিনের বেলা বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন মাখতে হবে। কারণ এটি ব্যবহারের পর ত্বক সূর্যের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
সতর্কতা: রেটিনল বা ভিটামিন সি-র মতো উপাদানের সঙ্গে এটি ভুলেও মেশাবেন না। ব্যবহারের পর ত্বক শুষ্ক হতে পারে, তাই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। ব্যবহারের আগে ছোট কোনও অংশে প্যাচ টেস্ট করে নিতে ভুলবেন না।
