ত্বকের যত্নে দামি সিরাম থেকে নামী ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ। তালিকায় বাদ থাকে না কিছুই। তা সত্ত্বেও আয়নার সামনে দাঁড়ালে মন খারাপ! অবাধ্য ব্রণ? সঙ্গে অকাল বলিরেখা, কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। অনেক সময় আমরা বুঝতেও পারি না, সমস্যাটা দামি প্রসাধনীতে নয়। নেপথ্যে প্রতিদিনের রসনাতৃপ্তি। বিশেষ করে আপনার প্রতিদিনের পাতে পড়া মিষ্টি। অতিরিক্ত চিনিই হতে পারে ত্বকের জেল্লা হারানোর আসল খলনায়ক।
ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলেই বিপদ। চিনি শরীরে প্রবেশ করার পর ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি ইনসুলিন ত্বকের নিচে থাকা তেলগ্রন্থি বা সেবাম উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলোকে অতিসক্রিয় করে তোলে। এর ফলে ত্বকের রোমকূপ বুজে গিয়ে ব্রণের দাপট বাড়ে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত চিনি কোলাজেন নামক প্রোটিনকে নষ্ট করে দেয়। এই কোলাজেনই আমাদের ত্বককে টানটান এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। চিনি সেই বুনোট আলগা করে দিলেই কপালে বা চোখের কোণে ফুটে ওঠে বয়সের ছাপ।
ফাইল ছবি
চিনিতেই লুকিয়ে অকাল বার্ধক্য?
অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস ত্বককে নিস্তেজ করে দেয়। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ‘সুগার ফেস’ বলা হয়। প্রসেসড ফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা প্যাকেটে ভরা কেক-বিস্কুট নিয়মিত খেলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা কমে যায়। ফলে দামি ফেসিয়াল বা স্কিন কেয়ার রুটিন মেনেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। ভেতর থেকে ত্বক দুর্বল হয়ে পড়লে বাইরের জেল্লা ফিকে হতে বাধ্য।
ফাইল ছবি
কীভাবে ফেরাবেন ত্বকের জেল্লা?
ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরাতে হলে সবার আগে রাশ টানতে হবে প্রসেসড সুগারে। তবে তার মানে এই নয় যে মিষ্টি খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। চিনির বিকল্প হিসেবে ডায়েটে রাখা যেতে পারে টাটকা ফল, অল্প মধু বা গুড়। এই প্রাকৃতিক শর্করা শরীর ও ত্বকের খুব একটা ক্ষতি করে না।
ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরে পেতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া জরুরি। শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে গেলে ত্বক এমনিতেই উজ্জ্বল দেখায়। মনে রাখবেন, রূপটান কেবল বাইরের প্রলেপ নয়, সুন্দর ত্বকের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আপনার খাদ্যাভ্যাসেও। তাই আজ থেকেই চিনির নেশা কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারে মন দিন। দেখবেন, বিনা মেকআপেই ফিরছে ত্বকের সেই হারিয়ে যাওয়া জেল্লা।
