বয়স বাড়লে ত্বকে তার ছাপ পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের আগেই যদি কপালে ভাঁজ পড়ে কিংবা গাল ঝুলে যায়, তবে দুশ্চিন্তা হয় বইকি! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ডবল চিন দেখে অনেকেই ঘাবড়ে যান। জিমের কসরতে শরীরের মেদ ঝরলেও মুখের মেদ কমবে কীভাবে? এই সমস্যার একমাত্র দাওয়াই ‘ফেশিয়াল যোগা’। বর্তমানে রূপটানের দুনিয়ায় মুখের ব্যায়াম বা ফেশিয়াল যোগা অত্যন্ত জনপ্রিয়। দামি প্রসাধনী মাখার চেয়েও এই প্রাকৃতিক উপায় ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে বেশি কার্যকর।
প্রতীকী ছবি
কেন করবেন এই ব্যায়াম?
আমাদের মুখে প্রায় ৫০টিরও বেশি পেশি রয়েছে। হাসাহাসি বা কথা বলার সময় সব পেশি সমানভাবে ব্যবহৃত হয় না। ফেশিয়াল যোগা করলে অলস পেশিগুলো সচল হয়। এর ফলে চোয়াল ও গালের গঠন সুদৃঢ় হয়। নিয়মিত অভ্যাসে চামড়া টানটান থাকে। সহজে ঝুলে পড়ে না। একই সঙ্গে ত্বক হয় উজ্জ্বল।
প্রতীকী ছবি
উজ্জ্বল ত্বকের গোপন চাবিকাঠি
মুখের ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বকের প্রতিটি কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছয়। ভিতর থেকে ত্বক সতেজ হয়ে ওঠে। এছাড়া ব্যায়ামের ফলে ত্বকের গভীরে কোলাজেন ও ইলাস্টিন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই উপাদানগুলোই ত্বককে অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখার হাত থেকে রক্ষা করে। বয়সের ছাপ ঠেকিয়ে রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার।
মুখের ব্যায়াম লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে ত্বকের গভীরে জমে থাকা টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়। অনেকের সকালে ঘুম থেকে উঠলে মুখ ফোলা দেখায়। নিয়মিত যোগাভ্যাসে এই ‘পাফিনেস’ বা ফোলা ভাব দ্রুত কমে। ক্লান্তি দূর করে ত্বককে দেখায় প্রাণবন্ত।
প্রতীকী ছবি
কতদিন ও কতক্ষণ করবেন?
রাতারাতি ফল পাওয়ার আশা করা ভুল। ফেশিয়াল যোগার সুফল পেতে হলে ধৈর্য প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় বের করতে হবে। টানা ৩-৪ মাস নিয়ম মেনে ব্যায়াম করলে তবেই পরিবর্তন চোখে পড়বে। ছোট ছোট সহজ পদক্ষেপই আপনার ত্বকের জৌলুস অটুট রাখতে পারে। মনে রাখবেন, দামি ক্রিমের চেয়েও নিয়মিত যত্নই হল আসল ম্যাজিক। তাই আজ থেকেই শুরু হোক ফেশিয়াল যোগা।
