আকাশে মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি। কখনও ভ্যাপসা গরম, কখনও হঠাৎ পশলা বৃষ্টিতে সপসপে চারপাশ। বর্ষার এই ভ্যাপসা গরমে স্টাইলে একদম আপস নয়। আবহাওয়া যখন খামখেয়ালি, তখন ফ্যাশনে চাই এমন এক ছোঁয়া যা একাধারে আরামদায়ক, একই সঙ্গে ট্রেন্ডি। এই মরশুমে পোশাক নির্বাচনের একমাত্র শর্ত— স্বস্তি, উপযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। অফিসের জরুরি বৈঠক থেকে ছুটির দিনের আড্ডা। ফ্যাশনের ব্যাকরণে শেষকথা কী?
ছবি: সংগৃহীত
১) সিন্থেটিক বা সিল্কের জাঁকজমক আপাতত তোলা থাক ট্রাঙ্কে। বদলে শরীরে জায়গা করে নিক সুতি, লিনেন বা ব্যাম্বু ব্লেন্ডের মতো হালকা সুতো। তাঁতের নরম ছোঁয়াও এই সময়ে দারুণ আরাম দেয়। এই ধরনের কাপড়ে বাতাস চলাচল সহজ হয়। ফলে ঘাম হলেও তা দ্রুত শুকিয়ে যায়। ত্বকে অস্বস্তি তৈরি হয় না।
২) আঁটসাঁট পোশাককে এই মরশুমে আলবিদা বলাই শ্রেয়। ফ্যাশন বোদ্ধাদের মতে, এখন ট্রেন্ড হল রিল্যাক্সড ফিট। ঢিলেঢালা ওভারসাইজড শার্ট, আরামদায়ক কো-অর্ড সেট কিংবা লুজ ট্রাউজার্স এখন ইন-থিং। এমন পোশাক বাছুন যা দীর্ঘক্ষণ পরে বাইরে থাকলেও ক্লান্তিবোধ আসবে না। কুঁচকে যাওয়ার ভয় নেই এমন সেপারেটসও আলমারিতে রাখতে পারেন।
৩) একঘেয়েমি কাটাতে ম্যাড়মেড়ে রঙের বদলে বেছে নিন নজরকাড়া প্রিন্ট। ট্রপিক্যাল মোটিফ, ফ্লোরাল প্রিন্ট কিংবা রকমারি স্ট্রাইপস এই মেঘলা দিনেও মনে এনে দেবে চনমনে ভাব। স্টেটমেন্ট শার্ট বা প্রিন্টেড কো-অর্ড সেটে একদিকে যেমন ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে, তেমনই তা চোখের দেখায় বেশ আরামদায়ক লাগে।
ছবি: সংগৃহীত
মনে রাখবেন, ফ্যাশন মানেই নিয়ত নতুন কিছু কেনা নয়। বরং এমন পোশাকে বিনিয়োগ করুন যা টেকসই। বারবার কাচলেও যার রং বা সুতো নষ্ট হবে না। বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী একটা পোশাককে ভিন্ন কায়দায় স্টাইল করে বারবার পরা যায়। এটাই বর্তমান যুগের টেকসই ফ্যাশনের মূল কথা। আবহাওয়া যেমনই হোক, সঠিক কাপড়ের সঠিক যুগলবন্দিতে আপনি হয়ে উঠতে পারেন অনন্যা। ফ্যাশন হোক যাপনচিত্রের সহজ প্রকাশ।
