গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায মানেই ত্বকে ট্যানিং হবেই। দীর্ঘ সময় সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ত্বক কালচে, নিষ্প্রভ ও অমসৃণ দেখায়। এই ট্যানিং রুখতে কমবেশি সকলেই সানস্ক্রিন (Sunscreen) ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু যদি দেখেন সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরেও ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরছে না কোনওভাবেই, তবে তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে বৈকি।
নজর দিন স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ায়।
সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেওয়ার প্রথম ধাপ। বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫–২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান উচিত। কারণ তা সেট হতে সময় না দিলে, বাইরে বেরনো মাত্র ঘামে তা ঘুয়ে গেলে, কোনও লাভই হবে না। তাছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে প্রতি ২–৩ ঘণ্টা অন্তর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই ভালো।
- কিন্তু সানস্ক্রিন সবটুকু পারে না। সূর্য যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে ত্বকের, তা থেকে বাঁচতে শরীরকে সুস্থ করে তুলতে হবে ভিতর থেকে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, বাদাম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
- বাড়ি ফিরেই মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করুন মুখ, গলা, ঘাড়। ঘাম, ধুলোবালি ও দূষিত কণা আটকে থাকতে পারে ত্বকে। তাই তা ডিপ ক্লেনজ করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহারের চাইতে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। দুধ, বেসন, মধুর মতো প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
- তবে অতিবেগুনী রশ্মির মতো ক্ষতিকারক বোধহয় আর কিছু হয় না। তাই হালকা রঙের, পুরো হাত ঢাকা পোশাক পরতে পারলেই ভালো হয় এ সময়। ছাতা, টুপি, সানগ্লাস সঙ্গে রাখুন রোজের জীবনে। স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে নিন মাথা।
সানগ্লাস, ছাতা সঙ্গে রাখুন সব সময়।
অনেকেই ভাবেন, আকাশ মেঘলা থাকলে, অর্থাৎ সূর্য সরাসরি দেখতে না পাওয়া গেলে, অতিবেগুনী রশ্মির ভয় থাকে না। তাই এমন দিনে চাইলেই এড়িয়ে চলা যায় সানস্ক্রিন। কিন্তু এমন ধারণা একেবারেই ভুল। প্রত্যেকদিন নিয়মমাফিক সানস্ক্রিন মাখা উচিত, তা সে আকাশ যতই মেঘাচ্ছন্ন থাকুক না কেন। এমনকী, যেদিন বাড়িতে থাকবেন, সেদিনও স্নানের পর অল্প সানস্ক্রিন দুই হাতের তালুর মাঝে ঘষে মেখে ফেলুন মুখ-ঘাড়ে। ত্বক ও স্বাস্থ্যের পর্যাপ্ত যত্ন নিলে ট্যানিং-এর ভয় থাকে না।
