যে হাতে করে খুন করে শুধু সেই কি খুনি? নাকি যে বা যারা দিনের পর দিন মন থেকে একজন মানুষকে শেষ করে দিতে চায়, চেষ্টাও করে, অথচ সফল হয় না তারা সকলেই খুনি? জটিল প্রশ্ন নিঃসন্দেহে। সেই প্রশ্নই তুলে দেবে হইচইতে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত অদিতি রায় পরিচালিত 'কুহেলি' ওয়েব সিরিজ।
আগাগোড়া থ্রিল ধরে রাখা কাহিনিতে প্রত্যেক অভিনেতাই নিজের চরিত্রে মানিয়ে গিয়েছেন দারুণভাবে। অনবদ্য অভিনয়ে সিরিজে দর্শককে আটকে রেখেছেন কৌশিক, সুস্মিতা, অঙ্গনা, ঋদ্ধিমা, শুভ্রজিৎ, প্রিয়াঙ্কা এবং দুর্বার। নবারুণ বসুর আবহ সংগীত যথাযথ।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের ঢালে ছোট্ট টাউন কুহেলি। সেখানে থানা থেকে শুরু করে ন্যারো গেজ রেলওয়ে স্টেশন, মার্কেট এরিয়া, আধুনিক ক্যাফে সবই রয়েছে। সেই এলাকার এসপি রানা সিংহকে (কৌশিক সেন) এক রাতে তার থানাতেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা মনে হলেও পরে বোঝা যায়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। রানার বাড়িতে রয়েছে তার স্ত্রী রাধিকা (সুস্মিতা দে) এবং ছোট্ট মেয়ে। একই এলাকায় খুব কাছে থাকে রাধিকার দুই বোন দেবিকা (ঋদ্ধিমা ঘোষ) ও ইশিকা (অঙ্গনা রায়)। রানা হত্যার তদন্তে টাউনে আসেন নতুন ডিএসপি অগ্নি বসু (প্রিয়াঙ্কা সরকার)। সন্দেহের তালিকায় এক এক করে উঠে আসে রানার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের নাম। কুয়াশা-ঢাকা শৈলশহরে জমে ওঠে রহস্য। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে শুভ্রজিৎ দত্ত, দুর্বার শর্মা, রোহিত মুখোপাধ্যায়। আগাগোড়া থ্রিল ধরে রাখা কাহিনিতে প্রত্যেক অভিনেতাই নিজের চরিত্রে মানিয়ে গিয়েছেন দারুণভাবে। অনবদ্য অভিনয়ে সিরিজে দর্শককে আটকে রেখেছেন কৌশিক, সুস্মিতা, অঙ্গনা, ঋদ্ধিমা, শুভ্রজিৎ, প্রিয়াঙ্কা এবং দুর্বার। নবারুণ বসুর আবহ সংগীত যথাযথ। রম্যদীপ সাহার চিত্রগ্রহণ এবং শুভজিৎ সিংহর সম্পাদনা প্রশংসার দাবি রাখে।
পুলিশ আধিকারিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, রহস্যভেদ করবেন প্রিয়াঙ্কা? ছবি সংগৃহিত
টান টান ঘটনাক্রমে কখন যেন পার হয়ে যায় সাতটা এপিসোড। রহস্যের ওঠাপড়া যে কোনও থ্রিলারপ্রেমীকে উত্তেজিত করবে।
কোনও ব্যক্তি যদি ক্রমশ তার আশপাশের বেশিরভাগ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে তাহলে তার থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া কি অপরাধ? মানুষকে অপ্রস্তুতে ফেলে, কষ্ট দিয়ে আনন্দ পেত রানা। কিন্তু তদন্ত শুরু করার পর এলাকায় তার পুরনো শত্রুদের খোঁজ না করে কেন প্রথমেই বাড়ির লোক এবং আত্মীয়দের সন্দেহ করা হল? তা স্পষ্ট নয়। এরকম অফিসারের বাইরে শত্রু থাকাই স্বাভাবিক। তবে শ্রীজীবের লেখা চিত্রনাট্য এসব ভেবে দেখার অবসর খুব একটা দেয় না, কারণ গল্প কোথাও থেমে থাকে না। টান টান ঘটনাক্রমে কখন যেন পার হয়ে যায় সাতটা এপিসোড। রহস্যের ওঠাপড়া যে কোনও থ্রিলারপ্রেমীকে উত্তেজিত করবে। কিন্তু সেখানেই থমকে যেতে হবে। কারণ গল্প শেষ হয় না। অথচ দুর্দান্ত ক্লাইম্যাক্স দিয়ে শেষ করার সবরকম সুযোগ ছিল। শেষ মুহূর্তে রয়েছে অন্য চমকও। এই সবকিছু নিয়েই নটেগাছটি মুড়োতে পারত। পারল না, কারণ পরের সিজন আসবে। অগত্যা সমস্ত প্রশ্ন ও খটকার উত্তর পেতে অপেক্ষা থাকবে আগামী সিজনের।
