দুধ গরম করতে গেলেই বিপাকে পড়েন? যতক্ষণই নজর রাখেন না কেন, পাঁচ মিনিটের জন্য রান্নাঘর ছেড়ে গেলেই, এসে দেখেন দুধ ছানা কেটে গিয়েছে? এ নেহাত মজার ঘটনা নয়। কখনও সখনও ছানা কেটে যাওয়া দুধ অন্য রান্নায় ব্যবহার করে নেওয়া গেলেও, রোজ তো তা সম্ভব হয় না। বরং জেনে নেওয়া যেতে পারে দুধ ছানা কেটে যাওয়া থেকে আটকানোর পদ্ধতি। অনেকেই দুধ ফোটানোর সময় এই ৩টি ভুল করে থাকেন, যার ফলে দুধের উপরিস্তরে দানাভাব দেখা যায় এবং তা পানের অযোগ্য হয়ে যায়।
অ্যাসিডিক উপাদানের সংস্পর্শে এলে দুধ ছানা কেটে যেতে পারে
ফুটন্ত দুধের উত্তাপ বাড়ান ধীরে
ফ্রিজ থেকে বের করে ঠান্ডা দুধ কিছুক্ষণ রুম টেম্পারেচারে রাখুন। তারপর তা পাত্রে গরম করার সময়, পাত্রটি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে দিন। অনেকেই ঠান্ডা দুধ সরাসরি গরম পাত্রে ঢেলে দেন। তাপমাত্রা আচমকা পরিবর্তন হলে, দুধ ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাত্রে দেওয়ার পর দুধের স্তর ফুলতে শুরু করলেই দ্রুত আঁচ কমিয়ে দিন।
দুধ কতটা টাটকা, যাচাই করুন অবশ্যই
অনেক সময়েই একসঙ্গে একাধিক দুধের প্যাকেট বা বোতল কিনে আনেন গৃহস্থ। এক্ষেত্রে দুধ গরম করার আগে অবশ্যই তার এক্সপায়ারি ডেট লক্ষ্য করা উচিত। এক্সপায়ারি ডেটের কাছাকাছি এসে গেলে, দুধ ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গৃহস্থ ভাবতেই পারেন যে, ছানা কেটে যাওয়া দুধ দিয়ে ছানার কোপ্তা বানিয়ে ফেলবেন! কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়ে থাকলে, সে দুধ সেবনের একেবারেই অনুপযোগী।
দুধের স্তর ফুলতে শুরু করলেই দ্রুত আঁচ কমিয়ে দিন
পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন
দুধ ফেটে যাওয়ার পিছনে পাত্রটির ভূমিকাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আঁচে বসানোর আগে দুধ গরম করার পাত্রটি পরিষ্কার কি-না, তা দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি আগেরবার ব্যবহারের সময় পাত্রে কোনও খাদ্যের পোড়া কণা রয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে পরেরবার তাতে যাই চাপানো হোক, দ্রুত পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া লেবুর বীজ বা অ্যাসিডিক উপাদান যদি রয়ে যায়, তবে দুধ ঢালা মাত্র ছানা কেটে যেতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, দুধ তীব্র আঁচে না ফোটালে, পান করা যায় না। যদিও খাদ্যবিশারদদের মতে, চা, ক্ষীর অথবা কাস্টার্ড বানাতে, মৃদু আঁচে গরম করা দুধই যথেষ্ট। তাই দুধের বিশেষ কোনও রেসিপি বানাবেন ভেবে থাকলে, যাচাই করে নিন সেটার জন্য কতখানি উত্তাপের প্রয়োজন।
