আজকাল সারা বছর ধরেই বেশিরভাগ ফল কিনতে পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মকালে তরমুজের যে স্বাদ, তা খুঁজলেও মিলবে না অন্য কোনও সময়। ফলের বাজারে রসালো অতিকায় এই ফল দেখলে, কিনতে ইচ্ছে হবে বইকি। কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায়, একদিন খেয়েই যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। তাছাড়া ভালো মানের তরমুজ পেলে অনেকেই একসঙ্গে একাধিক কিনে নিয়ে যান। কিন্তু বিপদ হয় তা বেশ কিছুদিন রেখে খেতে গিয়ে। তরমুজ দীর্ঘ সময় রেখে দিলে রসহীন শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে খাওয়া গেলেও বিস্বাদ লাগে।
গোটা ও টুকরো করা তরমুজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পদ্ধতি ভিন্ন।
গোটা তরমুজ ফ্রিজে ঢোকানোর দরকার নেই
তরমুজ যদি কাটা না হয়ে থাকে, তবে তা ফ্রিজে ঢোকানোর কোনও প্রয়োজন নেই। বাড়ির যে কোনও ঘরের শীতল কোণে, যেখানে সূর্যের আলো সরাসরি পৌঁছতে পারে না, সেখানে গোটা তরমুজ দিব্যি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। সরাসরি মেঝের উপর না রেখে, কাপড় বা শতরঞ্চি বিছিয়ে দেওয়া যায়। তবে প্লাস্টিক ভুলেও নয়, কারণ এতে তরমুজ ভেপসে যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাখতে হলে, অবশ্যই মাঝে মাঝে বুড়ো আঙুল দিয়ে তরমুজের গা টিপে দেখতে হবে, কোনও অংশ নরম হয়ে যাচ্ছে কি না।
কাটা ফল হিমায়িত না করলে দেখা দেবে সমস্যা
কিন্তু তরমুজের কেটে ফেলা টুকরো যদি খাওয়া না হয়, তবে চটজলদি ফ্রিজে ঢোকাতে হবেই। এয়ারটাইট কৌটো হলে সবচাইতে ভালো। তরমুজ খণ্ডের দু'টি স্তরের মাঝে বাটার পেপার বা পার্চমেন্ট পেপার রাখতে পারলে এ কাজে আরও সুবিধে হয়।
ওয়াটারমেলন কিউব দিয়ে বানানো যাবে স্বাদু সরবত
ওয়াটারমেলন কিউব রয়ে যায় দীর্ঘদিন
যদি আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণের ইচ্ছে থাকে, তবে আইসকিউবের মতো ছোট টুকরোয় কেটে নিতে হবে তরমুজ। একটা ট্রে-তে ছড়িয়ে সাজিয়ে তা একেবারে জমাট বরফ করতে হবে ডিপ ফ্রিজারে ঢুকিয়ে। শক্ত ডেলার মতো হয়ে গেলে, ফলের আঠালো ভাব চলে যাবে। তখন এয়ারটাইট প্যাকেটে ভরে আবারও ডিপ ফ্রিজারে রেখে দেওয়া যাবে তরমুজ। এই কিউব পরবর্তীকালে গ্রেট করে গোলা-আইসক্রিমের মতো খাওয়া যাবে, অথবা বানানো যাবে সুস্বাদু শরবত।
তবে দোকান থেকে সদ্য নিয়ে আসা টাটকা ফলের যে স্বাদ, তার জুড়ি মেলা ভার। তাই সম্ভব হলে স্বল্প পরিমাণেই কিনে আনুন তরমুজ। তাজা থাকতে থাকতেই, কোনও এক গরমের দুপুরে তা উপভোগ করুন পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে।
