হরমোন ক্ষরণের তারতম্যের (hormonal balance) জন্য নানা ধরনের শারীরিক ভোগান্তি পোয়াতে হয় মেয়েদের। ঘন ঘন মুড স্যুইং হয়, খিদে পায় না, ঘুম আসতে চায় না। ত্বকে র্যাশ দেখা দেয়, মাথার চুল কমতে থাকে, অথচ শরীরের নানা অংশে অবাঞ্ছিত কেশ গজিয়ে ওঠে। সর্বোপরি সন্তান ধারনের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা আসতে পারে। শারীরিক সৌন্দর্য খুইয়ে চূড়ান্ত হীনমন্যতায় ভোগেন এই মেয়েরা। সমাজে স্বাভাবিকভাবে মেলামেশায় বাধা পান।
সেসব শুধরাতে যে সবসময়েই চিকিৎসার দ্বারস্থ হতে হবে, তা নয়। যদি খাদ্যাভ্যাস বদলানো যায়, তাহলেও অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হরমোন ক্ষরণ। হরমোনাল ব্যালেন্স আনতে রোজের খাদ্যতালিকায় রাখা যায় কোন খাবার? জেনে নেওয়া যাক।
হরমোন ক্ষরণের তারতম্যের জন্য নানা ধরনের শারীরিক ভোগান্তি পোয়াতে হয় মেয়েদের
ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি
নারীশরীরে ইসট্রোজেন ক্ষরণ বাড়ায়। এতে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার থাকে। ফলে হজমে সাহায্য হয়। ফ্ল্যাক্স সিড গুঁড়ো করে নেওয়া যেতে পারে। তারপর টক দই, ওটস, অথবা বাড়িতে হাতরুটি বানানোর সময় মিশিয়ে দেওয়া যায় এক টেবিলচামচ পরিমাণ।
সবুজ শাক-সবজি
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের উচিত খাবারের পাতে যতটা সম্ভব সবুজ শাক সবজি রাখা। পিরিয়ডসের আগে যেসব নারীদের ঘুমের সমস্যা হয়, শরীর অকারণই ক্লান্ত লাগতে থাকে, তাদের জন্য এই খাবার বিশেষ কার্যকরী। সবুজ সবজিতে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে। ফলে অনাক্রম্যতা বাড়ে।
ড্রাই ফ্রুট ও বীজ
কাজু-আমন্ড-আখরোট থেকে পাওয়া যায় হেলদি ফ্যাট, প্রোটিন ও খনিজ উপাদান। এর ফলে স্বাভাবিক নিয়মে হরমোন ক্ষরণ হয়। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সুস্থতা বজায় থাকে। তবে একই রকম জরুরি কুমড়ো এবং সূর্যমুখী ফুলের বীজ। কুমড়োর বিজে থাকা জিঙ্ক ত্বককে কোমল করে, অন্যদিকে সূর্যমুখীর বীজ প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়।
টক দই
থাকে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম। রোজের খাবারের পাতেই রাখা যায়। মেটাবোলিজম বৃদ্ধি পায়, হরমোন ক্ষরণেও ভারসাম্য আসে।
পাতে থাকুক সবুজ শাক সবজি, টক দই, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও ডাল।
ডাল ও শুঁটি জাতীয় খাবার
হরমোন ক্ষরণ স্বাভাবিক করতে ডালের জুড়ি মেলা ভার। একইরকম গুরুত্বপূর্ণ মটরশুঁটি, অঙ্কুরিত ছোলা প্রভৃতি। প্রভূত পরিমাণে ফাইবার ও প্রোটিন থাকায়, মেদ ঝরাতেও সাহায্য করে এইসব খাবার। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নারীদের দৈহিক ওজন বেড়ে গিয়েছে। পিরিয়ডস অনিয়মিত হয়েছে। মেদ ঝরাতে সক্ষম হলে, অন্যান্য সমস্যাও স্বাভাবিক হয়ে আসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।
হরমোনাল ব্যালান্স আনতে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়তেই পারে। তবে খাদ্যভ্যাস বদলানো গেলে, সেই প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা যায় অনেকাংশেই।
