বাঙালিদের রোজের জীবনে চায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সকাল হোক বা সন্ধে, অলস সময় কাটানোর জন্য হোক অথবা কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে, এক কাপ চা না হলে চলেই না। চা-প্রেমীরা মনে করেন, দিনভর কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো এনার্জি কেবলমাত্র যোগান দিতে পারে চা-ই। অন্য সময় নাও যদি জোটে, সকাল ও বিকেলে এক-এক কাপ চা চাইই চাই! পুষ্টিবিদরা অবশ্য বলেন, কতখানি এনার্জি পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে দিনের কোন সময় চা পান করা হচ্ছে, আর কেমনভাবে— তার উপর। সঠিক সময়ে সঠিক চা পান করা গেলে, আরও নানা শারীরিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আদা চা। ক্যামোমাইল টি। তুলসী চা। গ্রিন টি।
সকালে চা পান করলে তা কেমনভাবে উপকারে লাগে?
দিনের সূচনা যদি চা পান করে করা যায়, তবে শরীর সজাগ হয়ে ওঠে সহজেই। মেটাবলিজম সক্রিয় হয়, যা হজমে সাহায্য করে। একাগ্রতা বাড়ে। এক কাপ চায়েই দেহ-মন ঝরঝরে লাগে। খিদে বাড়ে। ফলে জলখাবার খাওয়ার সময়, পেট ভার লাগে না। বরং শরীরের কতটুকু খাবার দরকার, তা বুঝতে পারা যায়।
বিকেলে চা পানের উপকারিতা কী কী?
সারাদিন বাড়ির কাজের মধ্যে কাটুক, অথবা বাইরের কাজের ব্যস্ততায়, বিকেল নাগাদ শরীর জুড়ে ক্লান্তি ভর করেই। এমন অবস্থায় এক কাপ উষ্ম পানীয় শরীরকে অনেকখানি চাঙ্গা করে তোলে। এমনকী এই হতোদ্যম ভাব কাটাতে অনেকেই গরমের দিনেও ঠান্ডা পানীয়ের চাইতে পছন্দ করেন গরম চা-ই। দিনশেষে শান্ত মনে চা পান করলে মাথাধরা কমে। বিরক্তি-উদ্বেগও থিতু হয়। হজমে সাহায্য হয় নিঃসন্দেহে। বাকি সন্ধে কাটানোর মতো স্ফূর্তি পাওয়া যায়।
কোন চা পান করবেন?
যে কোনও চা পান করলেই যে ভরপুর স্বাস্থ্যগুণ মিলবে, এমনটা নয়। দুধ-চা অনেকেই ভালোবাসেন বটে, তবে এতে শরীরের ক্ষতিই হয়। হজমের সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন পান করলে হতে পারে ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম-ও। তাছাড়া দিনের শুরুতে খালিপেটে কখনওই কড়া চা পান করা উচিত নয়।
পেপারমিন্ট টি। সাধারণ লিকার চা। লেবু চা। দুধ চা।
বেছে নিন হালকা স্বাদের হার্বাল টি। সকালে আদা-চা বা লেবু-চা পান করলে হজমে সুবিধে হয়। গ্রিন টি-তে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, ফলে মেটাবোলিজম সক্রিয় হয়, হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। চটজলদি এনার্জি পেতে সাহায্য করে সাধারণ লিকার চা। ক্যামোমাইল টি পান করলে ঘুম গভীর হয়। পেপারমিন্ট টি পেটের ভার ভাব কমাতে সাহায্য করে। তুলসী চা অনাক্রম্যতা বাড়ায়।
অন্য যে কোনও খাবারের মতোই চা-ও পান করা উচিত নির্দিষ্ট মাত্রায়। নয়তো ভালো হওয়ার বদলে, নতুন রোগের পথ প্রশস্ত হয়!
