মেদ ঝরাতে চেয়ে খাবার তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ ভাত-রুটি-পরোটা। বিশেষত সকালের জলখাবারের পাত থেকে। তার বদলে নতুন সংযোজন ওটস (eating oats)। রান্না করার ঝামেলাও নেই। চট করে গরম জলে গুলে নিলেই তৈরি। স্বাদ বিশেষ নেই ঠিকই, তবে চটজলদি তৈরি হয়ে যায়। ভাত-রুটির বদলে অনেক কম পরিমাণে খেলেই পেট টইটুম্বুর ভর্তি।
এক মিনিট, সময় বাঁচাতে গিয়ে বড় রকম ক্ষতি করে ফেলছেন না তো শরীরের? পুষ্টিবিদরা বলছেন, ওটস হালকা, কার্বোহাইড্রেট ভাতের তুলনায় অনেকখানি কম। কিন্তু কেবলমাত্র জলে গুলে খেলে তেমন কিছুই কাজে লাগে না। এতে নিজস্ব প্রোটিন প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে কিছুদিন টানা এমন খাওয়া গেলে, আচমকা লো প্রেশার হতে পারে। শরীর দুর্বলও লাগতে পারে পর্যাপ্ত হেলদি ফ্যাটের অভাবে।
ওটস দুধে মিশিয়ে খেতে পারেন, খিচুড়ি বানাতে পারেন, অথবা অলমেটও বানানো যায়।
কী করা যায় তাহলে?
তৈরি করতে হবে এমন এক সুষম খাদ্যাভ্যাস, যা গড়ে উঠবে ওটসকে মাঝে রেখে। ধরে নিন, ওটস কেবল আপনার পাতে থাকা সাদা ভাতটুকুর সমতুল্য। তার সঙ্গে কি আপনি ডাল-তরকারি জুড়বেন না? ওটস খেতে হলে, তা দুধ অথবা ইয়োগার্টের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো দিন মধু, ড্রাই ফ্রুট কিংবা পছন্দসই ফলের টুকরো।
ডাল ও বিভিন্ন সবজি ডুমো করে কেটে ওটসের খিচুড়ি বানানো যায়। সঙ্গে ডিম ভাজা আর আচার হলে এক্কেবারে জমাটি খাওয়া হয়ে যাবে! বানাতে পারেন ওটসের অমলেটও। ডিমের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে, কুচি করে কাঁটা পিঁয়াজ-টোম্যাটো ছড়িয়ে দিন। টক দই বা সসের সঙ্গে অত্যন্ত উপাদেয় এই অমলেট। পেটও ভরে থাকে দীর্ঘ সময়।
অনেকেই আবার ওটসকে সুস্বাদু বানাতে চেয়ে, তা দিয়ে পায়েস কিংবা ডেজার্ট তৈরি করেন। মনে রাখতে হবে, প্রচুর পরিমাণে চিনি, মিষ্টি সিরাপ, চকোলেট চিপস প্রভৃতি মেশালে, তা আর স্বাস্থ্যকর থাকে না। দোকানের কেক অথবা মিষ্টি খেলে শরীরের যা ক্ষতি, এ ধরনের ডেজার্ট খেলেও তাই। ফলে ওটসকে উপাদেয় করতে চাইলেও এ বিষয়টির প্রতি সচেতন থাকতে হবে।
ওটস কতখানি খাচ্ছেন, তাও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খুব অল্প পরিমাণেই পেট ভর্তি হয়ে যায়।
ওটস কতখানি খাচ্ছেন, তাও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খুব অল্প পরিমাণেই পেটভরতি হয়ে যায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ৪০-৬০ গ্রাম ওটস যথেষ্ট। চোখে দেখে তা কম মনে হলেও, কখনওই বড় বাটি ভর্তি ওটস খাওয়া উচিত নয়, বলছেন পুষ্টিবিদরা। এতে পেট ফেঁপে উঠতে পারে, হজম-জনিত নানা কষ্ট হতে পারে।
