মাংস খাওয়ার কথা উঠলেই সবার প্রথমে মুরগির মাংসের কথা মনে পড়ে আমাদের। রোগীর পথ্য থেকে রাজকীয় ভোজ— মুরগির মাংসের পদ বানানো যাবে যেকোনও রকমভাবেই। সহজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে সাধ্যের মধ্যেই এই মাংস পাওয়া যায়। তাই খান না বা পছন্দ করেন না, এমন লোক মেলে না সচরাচর। মাংস ছাড়াও মুরগির শরীরের নানা অংশ রান্না করা যায় নানা রকমভাবে। কিন্তু চিকিৎসকেরা সাবধান করছেন সে বিষয়ে। জানাচ্ছেন, মুরগির বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে থাকে নানান ক্ষতিকর পদার্থ, যা খেয়ে, অজান্তেই রোগ ডেকে আনছে মানুষ।
মুরগির পা ও গলা।
মুরগির কোন কোন অংশ (chicken parts) খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া উচিত তবে? জেনে নেওয়া যাক।
মুরগির ছাল
ছোট টুকরোয় কেটে, ডুমো আলুর রঙ ঝাল-ঝাল রান্নায় এক থালা ভাত নিমেষে উঠে যায়! কিন্তু শরীরের জন্য তা ঠিক হবে কি? মুরগির ছালে বিপুল পরিমাণে ফ্যাট থাকে। ফলে এ থেকে কোলেস্টেরল আচমকা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হৃদরোগের সম্ভাবনাও আছে। তাছাড়া রান্নার পরেও ছালের মধ্যে রয়ে যেতে পারে ব্যাকটেরিয়া।
মুরগির কচকচি
অনেকেই ভীষণ ভালোবাসেন। বাড়ির বাচ্চারাও খায় তরিবৎ করে। কিন্তু শরীরের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতেই হয়। কচকচি আদতে মুরগির ফুসফুস। এতে রয়ে থেকে পারে আণুবীক্ষণিক ব্যাকটেরিয়া অথবা প্যারাসাইট। রান্নার পরেও তা অবিকৃত থাকে।
মুরগির মাথা
জীবৎকালে যদি কীটনাশক মিশ্রিত খাবার খেয়ে থাকে মুরগিটি, তবে তার কিছু অংশ জমা হয়ে থাকে মাথার টিস্যুতে। মানবশরীরে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
মুরগির নাড়িভুঁড়ি
কোনওভাবেই পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। ফলে ভিতরে ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। ফুড পয়জনের মতো ভয়াবহ অসুখ হয়ে যেতে পারে এ থেকে।
মুরগির কলিজা ও কচকচি।
মুরগির পা
পা ও নখের গোড়ায় জমে থাকতে পারে মাটির ময়লা, ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি। গরম জলে ধুয়েও সে সমস্ত ময়লা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় সবক্ষেত্রে।
মুরগির কলিজা
হরমোনের যা কিছু প্রভাব পড়ে প্রাণীদেহে, তার বেশিরভাগটাই কলিজার উপর। তাই তেমন কিছু খাওয়ার ইচ্ছে থাকলে, তা কতখানি স্বাস্থ্যকর হবে, অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
মুরগির গলা
সবচাইতে বেশি ব্যাকটেরিয়া বোধহয় এই অংশেই থাকে! খাওয়ার হলে, অবশ্যই তা বারেবারে গরম জলে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
