বাজারে দেদার বিকোচ্ছে বলেই গৃহস্থও এই গ্রীষ্মকাল জুড়ে কিনে আনছেন নানা জাতের আম। সকালে দুপুরে সন্ধে রাতে— পাতের পাশে আপাতত পাকাপাকি জায়গা পাকা আমের (ripe mango)। মুড়ির সঙ্গে, শরবতে অথবা এমনি এমনিই খাওয়া যায়। ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন সি, এ, ই, কপার, পটাশিয়াম— সমস্ত গুণাবলি বুঝি ভিড় করেছে এই একটা ফলেতেই। মনের আরাম তো বটেই, শরীরের উন্নতিসাধনেও পাকা আমের ভূমিকা অপরিসীম। তিন সপ্তাহ ধরে রোজ যদি পাকা আম খান, শরীরের পরিবর্তন চোখে পড়তে বাধ্য।
ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন সি, এ, ই, কপার, পটাশিয়াম— সমস্ত গুণাবলি বুঝি ভিড় করেছে এই একটা ফলেতেই।
ত্বকে খেলবে উজ্জ্বলতা
প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট থাকে বলে ভরপুর এনার্জি পাওয়া যায় এই ফল থেকে। ফাইবার রয়েছে বলে হজমক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে কমে সুগার ক্রেভিং। যদি জীবনধারা থেকে চিনিতে ভরা কৃত্রিম পানীয় ও মিষ্টি জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়, তবে শরীর তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফেরত পাবেই।
হজম ভালো হলেই তা প্রতিফলিত হবে চেহারায়
দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ আমে থাকা ফাইবার পুরোদমে কাজ শুরু করবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা একেবারেই থাকবে না। এক কাপ জল খেলে যে পরিমাণ আর্দ্রতা পায় শরীর, পাকা আমে পাবে তার চাইতেও বেশি। ভিতর থেকে হাইড্রেট হওয়ার সুযোগ পাবে ত্বকও।
কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করবে
আমের বিবিধ ভিটামিন শরীরকে সতেজ করে তুলবে। তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। ভিটামিন সি থাকায় কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। ফলে যাদের দেহে স্বাভাবিকভাবে কোলাজেন উৎপাদনের পরিমাণ সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে কাজে দেবে এই ফল।
আম কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে এর গুণাবলি।
আম কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে এর গুণাবলি। আম খাওয়ার পাশাপাশি পাতে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। ডিম, দুধ-জাতীয় খাবার, বাদাম— সব নিয়েই ‘ব্যালেন্সড ডায়েট’ তৈরি করা সম্ভব।
তবে কোনও খাবারেই ম্যাজিক নেই। আমেও তাই। বরং মাত্রাতিরিক্ত খেলে ভালোর বদলে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই রোজ খেতে হলে, তা যেন অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে খাওয়া হয়, নজর দিন সেইদিকে। পাকা আমে অ্যালার্জিও থাকতে পারে কারও। এমনকী আমের বৃন্ত থেকে যে কষ বেরোয়, তা থেকে ঘা হতে পারে, ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে। তাই সবদিক খতিয়ে দেখে, তবেই আম খাওয়া যায়।
