গ্রীষ্মকালের জনপ্রিয় আম-লিচু-তরমুজের ভিড়ে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে ফলসার নাম। অথচ এই একরত্তি কালচে লাল ফলের একসময় হামেশাই দেখতে মিলত গ্রামবাংলায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো নামটুকুও শোনেননি এই ফলের। যদিও গুণাবলির তালিকা করতে বসলে রীতিমতো চমকে যেতে হয়। মুখে দিলে একই সঙ্গে একটু টক, একটু মিষ্টি লাগে ফলসা। একাধারে ভিটামিন এ, সি, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মিনারেলের ভাণ্ডার। রয়েছে পটাশিয়ামও, ফলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে, হজমেও সাহায্য করে।
আকারে এক চিলতে হলেও রসে টইটম্বুর ফলসা, শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে তাই। অনাক্রমতা বাড়ায়, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এমনকী নির্দ্বিধায় খেতে পারেন ডায়বেটিক রোগীরাও। তবুও অতিসাধারণ দেখতে এই ‘বেরি’ কোনওদিনই তার প্রাপ্য লাইমলাইটটুকু পেল না!
তাই এই গ্রীষ্মে অন্যরকম কিছু ফলের স্বাদ নিতে চাইলে, খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেন এক সময়ের অতিপরিচিত ফলসা। অল্প বিটনুন মাখিয়ে খেতে পারেন এমনিতেই। আবার চাইলে ফলসা দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু শরবত (phalsa sherbet)। শরীর-মন জুড়াতে এই শরবতের জুড়ি মেলে না।
জেনে নিন শরবত তৈরির প্রণালী।
এর জন্য প্রয়োজন—
- ৫০০ গ্রাম ফলসা
- ৫ টেবিলচামচ চিনি। চিনি ব্যবহার করতে না চাইলে, গুড়, মধু অথবা স্টিভিয়াও ব্যবহার করা যায়।
- অর্ধেক চা-চামচ নুন
- অর্ধেক চা-চামচ গোলমরিচ
- এক চিমটে ব্ল্যাক সল্ট
- ঠান্ডা জল
জলে ধুয়ে নিন ফলসা, বড় পাত্রে রাখুন। স্বাদমতো মিষ্টি, লবণ, গোলমরিচ দিন হাতে। হাত বা ফ্রুট ম্যাশার ব্যবহার করে ভালো করে ঘুঁটে নিন সমস্তটা। প্রতিটি ফল ভালোমতো চটকানো হলে, আধঘণ্টার জন্য তা রেখে দিন একপাশে। সরাসরি সূর্যালোকের নিচে রাখতে পারলে স্বাদ আরও খোলতাই হয়। নির্দিষ্ট সময় পেরোলে, বীজ-সহ ফলের নির্যাস ভালোমতো ছেঁকে নিন। ঠান্ডা জলের সঙ্গে পরিমাণমতো মিশিয়ে নিন। এই অবস্থায় প্রয়োজনে বাড়াতে পারেন চিনি অথবা লবণের পরিমাণ।
প্রবল দাবদাহে বাড়িতে আগত অতিথিদের মন এই শরবতে গলতে বাধ্য। তবে ফলসার নির্যাস বের করার পর, তা টাটকা থাকতে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সেবন করতে পারলেই সবচাইতে ভালো কাজ দেয়।
