কেউ বলে খরমুজ, কেউ বলে ফুটি। কিন্তু গ্রীষ্মকালের ফল হিসেবে আম-লিচু-তরমুজ নিয়ে যত কথা হয়, খরমুজ (muskmelon) নিয়ে তার সিকিভাগও হয় না। এই ফলে জলীয় পরিমাণ বেশি, স্বাদ সামান্য মিষ্টি। তাই অনেকের কাছে বিস্বাদ লাগে এই ফল। আর তাই চূড়ান্ত দাবদাহের মাঝেও শরীরকে শীতল রাখতে যে খরমুজের অপরিসীম গুরুত্ব, তা নিয়ে আলোচনায় হয় না তেমন।
ফুটি খেলে কী উপকার মিলবে?
এই ফলে ভিটামিন এ ও সি ভরপুর রয়েছে। নিয়মিত ফুটি খেলে ত্বক কোমল হয়, অনাক্রম্যতা বাড়ে, দৃষ্টিশক্তি জোরালো হয়। খরমুজে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য ফাইবার রয়েছে, ফলে হজমে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। এতে ক্যালোরির মাত্রা অত্যন্ত কম, তাই মেদ ঝরানোর চেষ্টা করছেন যারা, তাঁরা খাদ্য তালিকায় খরমুজ রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে। শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গরমকালে অত্যন্ত জরুরি এই ফল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়ম করে খরমুজ খেলে নাকি ত্বক বলিরেখা মুক্ত হয়।
কীভাবে খাওয়া যাবে?
- অন্য যে কোনও ফলের মতো ছোট টুকরোতে কেটে, সকালের জলখাবার শেষে খাওয়া যেতে পারে। ছড়িয়ে দেওয়া যায় সামান্য সৈন্ধব লবণ।
- স্মুদি বানানো যেতে পারে। ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিন কুচি করে কাটা খরমুজ, অর্ধেক কাপ ঠান্ডা দুধ, এক টেবিলচামচ মধু এবং কয়েক খণ্ড বরফ। ঘন হয়ে গেলে বাটিতে নামিয়ে নিন। উপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন এলাচের গুঁড়ো অথবা পাতিলেবুর রস।
- জুস বানানো যায়। ব্লেন্ডারে কুচি করে কাটা খরমুজ, এক টেবিলচামচ মধু বা গুড়, অর্ধেক কাপ জল, সৈন্ধব লবণ বা কালো নুন, পাতিলেবুর রস, দু-তিন কুচি আদা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। গ্লাসে কয়েক খণ্ড বরফ নিয়ে, তার উপর দিয়ে ঢেলে দিন মিশ্রণ। বীজ এড়াতে, ঢালার আগে ছেঁকে নিতে পারেন।
স্মুদি অথবা জুস করে খেলে, অল্পেই পেট ভরে যায়। ফলে বাকি খাবারের পরিমাণ কমানো যায় আন্দাজমতো।
কারা খাবেন না?
যাদের ডায়বেটিস রয়েছে, তাদের খরমুজ এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এই ফলে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব যথেষ্ট বেশি। এছাড়া যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট, তাদের ক্ষেত্রে দুধ-খরমুজে তৈরি স্মুদি এড়িয়ে চলাই ভালো। নয়তো হজম-জনিত সমস্যা দেখা দেবে।
খরমুজ সেভাবেই খান, যেভাবে খেলে তা শরীরে সহ্য হয়। তবে গুরুতর অসুবিধা না থাকলে, প্রবল গরমে শরীর শীতল রাখতে প্রায়শই খাওয়া যায় এই সহজপাচ্য ফল।
