গিন্নির আবদার। বাজার থেকে হিমসাগর আনতেই হবে। তড়িঘড়ি থলে হাতে ছুটলেন। গৃহকর্ত্রীর বায়না রাখতে না পারলেই সর্বনাশ! অতেব, ফলের দোকান থেকে কিনে নিয়ে এলেন হিমসাগর। মনে মনে নিজেই নিজের তারিফ গুণলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরেই দুর্ভোগ। আম দেখে আপনার স্ত্রী তুলধনা করে ছাড়লেন আপনাকে। কারণ? হিমসাগর আনতে গিয়ে ঠকে ফিরেছেন আপনি। বিক্রেতা আপনাকে মুরগি করেছে। আম-আদমির এমন ‘হিমসাগর’ বিভ্রাট হওয়া স্বাভাবিক! কারণ, বাজারে এমন অনেক জাতের আমই দেখা যায় যার মিল রয়েছে হিমসাগরের সঙ্গে। তীব্র চাহিদার সুযোগ নিয়ে কারচুপির সম্ভাবনা তাই প্রবল। কিন্তু আমের সঠিক জাত চেনা থাকলে এই বিভ্রাট এড়ানো সম্ভব। কীভাবে চিনবেন আসল হিমসাগর?
ছবি: সংগৃহীত
হিমসাগর: বাঙালির নয়নের মণি এই আম মে মাসের শুরুতেই বাজারে চলে আসে। তবে এর আয়ু বেশ কম। হিমসাগর চেনার প্রধান উপায় হল এর গায়ের রং। পেকে গেলেও এই আমের বাইরের খোসা কিন্তু সবুজই থাকে। ভেতরটা হয় গাঢ় হলুদ। মাঝারি আকারের এই আমের স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। অবিশ্যি গন্ধেই লুকিয়ে থাকে এর আসল পরিচয়।
ছবি: সংগৃহীত
গোপালভোগ: মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এর আনাগোনা। বাংলাদেশের নরহাট্টার গোপাল নামের এক ব্যক্তির হাত ধরে এই আমের চাষ শুরু। সেই থেকেই নাম গোপালভোগ। এর সবুজ খোসার গায়ে হালকা হলুদ দাগ থাকে। আমটি পুরোপুরি পেকে গেলে একেবারে টুকটুকে হলুদ রঙ ধারণ করে।
ছবি: সংগৃহীত
গোলাপখাস: নামের মধ্যেই এর সার্থকতা। এই আমের গন্ধ অনেকটা গোলাপের মতো। দেখতেও ভারী সুন্দর। হলুদ, সবুজ আর লালের এক অদ্ভুত মিশ্রণ থাকে গায়ে। পাকলে আমের নিচের দিকে এক চমৎকার লালচে আভা ফুটে ওঠে।
ছবি: সংগৃহীত
চৌসা: ইতিহাস বলে, ষোড়শ শতকে স্বয়ং শের শাহ এই আমের নামকরণ করেছিলেন। উত্তর ভারতে এর ব্যাপক রমরমা। এই আম চেনার সহজতম উপায় হল এর উজ্জ্বল সোনালি হলুদ রং। আকারে এটি বেশ খানিকটা লম্বাটে ধরনের হয়।
