বছরভর ফলের বাজারে কিনতে পাওয়া যায় কলা। বাঙালির বাড়িতেও তাই তার নিত্য আনাগোনা লেগেই থাকে। সহজপাচ্য, ফলে ছোট বড় সবাই খেতে পারে। কাঁচাকলারও বিপুল চাহিদা রয়েছে। পেটের যেকোনও সমস্যায় কাঁচকলার ঝোল খাওয়া যায়। এমনকী মুচমুচে চিপস বানিয়েও অনেকেই খান। কেবল ফলটুকু নয়, কলাগাছের কাণ্ড থেকে পাতা— প্রতিটি জিনিসকেও নানা কাজে লাগিয়েছে মানুষ।
কিন্তু জানেন কি, কলার খোসাটুকুও ফেলার প্রয়োজন নেই! বরং তা দিয়ে বানিয়ে ফেলা যায় উপাদেয় চাটনি (Banana Peel Chutney)! বিহারের কয়েকটি গ্রামে এ ধরনের চাটনি খাওয়া হয় আগে থেকেই। আর বর্তমানে তা-ই নতুন করে ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়!
কড়াইতে মশলাপাতি নেড়েচেড়ে, দিয়ে দিন কুচানো কাঁচকলার খোসা
কলার খোসার চাটনি বানাতে কী কী প্রয়োজন?
- দুটি কাঁচা কলা
- কুচানো পিঁয়াজ একটি
- ৪-৫ কোয়া রসুন
- এক ইঞ্চি-সমান আদার টুকরো
- দুটো কাঁচা লঙ্কা কুচানো
- একটা শুকনো লঙ্কা
- এক চা-চামচ গোটা জিরে
- এক টেবিলচামচ সরষের তেল
- পরিমাণমতো লবণ
- কুচানো ধনেপাতা
- একটি পাতিলেবুর রস
প্রণালী
কাঁচা কলা সেদ্ধ করে নিন। খোসা ছাড়িয়ে নিন চাটনির জন্য। ভিতরের সেদ্ধ হওয়া শাঁস এ রান্নায় লাগবে না। তা দিয়ে অন্য কোনও তরকারি বা কোপ্তা বানাতে পারেন। ঠান্ডা হলে, কলার খোসা কুচিয়ে নিন।
কড়ায় সরষের তেল গরম হলে দিয়ে দিন গোটা জিরে। একে একে দিন কুচানো আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা, পিঁয়াজ, শুকনো লঙ্কা। সুবাস বেরনো পর্যন্ত নাড়াচাড়া করুন। এর মধ্যে দিয়ে দিন কুচানো কলার খোসা। পরিমাণমতো লবণ দিন। নাড়তে থাকুন আবারও। মাখো মাখো হয়ে এলে, ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। আরও কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন।
হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে মিশ্রণটা পেস্ট করে নিন ব্লেন্ডারে। তবে শিলপাটায় বাটলে ঘনত্ব একেবারে সঠিক অনুপাতে হয়। বাটিতে তুলে নিয়ে, ছড়িয়ে দিন পাতিলেবুর রস, কয়েক ফোঁটা সরষের তেল।
স্বাদ-গন্ধে অতুলনীয় এই নিরামিষ পদ।
রুটি-চাপাতির সঙ্গে চাটনি হিসেবে খাওয়া যায় তো বটেই। তবে বাঙালি একে খেতে পারেন ভর্তা হিসেবেও, গরম ভাতের সঙ্গে মেখে। ডাল-তরকারির দরকারই পড়বে না, এই এক চাটনিতেই শেষ হবে থালা ভর্তি ভাত!
বানানো একেবারে সহজ। উপকরণও আহামরি নয়। ফলে চাইলেই বাড়িতে বানিয়ে ফেলার দেয় কাঁচকলার খোসার চাটনি। স্বাদ-গন্ধে অতুলনীয় এই নিরামিষ পদ।
