ফিফা প্রেসিডেন্ট হয়েও গোটা ফুটবলবিশ্বে নিন্দার মুখে পড়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একের পর এক দেশ জানিয়েছে, ইনফান্তিনোকে তারা আর ফিফা প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে দেখতে চায় না। তাঁর প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনতেও আগ্রহী ফুটবলখেলিয়ে একাধিক দেশ। ব্যতিক্রম একটি দেশ-লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা! তারা ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে বারবার আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূচি থেকে রেফারিং-আর্জেন্টিনার কাজ সহজ করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার তরফ থেকে বিবৃতি জারি করা হয় ইনফান্তিনোকে নিয়ে। মেসিদের ফেডারেশনের মতে, গত ১০ বছরে ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসাবে ফুটবলকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেটা যথেষ্ট সমর্থনযোগ্য। এই প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নতি হয়েছে। স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীলতা এসেছে ফুটবল প্রশাসনে। এমনকী বিশ্বকাপ 'বিক্রি'র ঘোষণা করার পর ফিফার সরে আসাটাও প্রশংসনীয় ব্যাপার বলে জানিয়েছে মেসির দেশ। তাদের মতে, ভুল বুঝতে পারার মানসিকতাকে সম্মান জানানো উচিত।
আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার এহেন 'গদগদ' বিবৃতির 'টাইমিং' নিয়ে জোর চর্চা চলছে। বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলার এবং সমর্থকরা একাধিক নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন চুপ থাকলেও বিশ্বকাপ শেষ হতেই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। প্রশ্ন উঠছে, শাস্তি এড়ানোর জন্যই কি এখন ফিফা প্রেসিডেন্টের প্রশংসায় গলা ফাটাচ্ছে আর্জেন্টিনা? ফুটবলমহলের আরেকটা অংশ আবার প্রশ্ন তুলছে, বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়েই কি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়াচ্ছে মেসিদের দেশ?
প্রসঙ্গত, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সবার আগে সুর চড়িয়েছিল উয়েফা। তারা এখনও জানিয়ে দিয়েছে, ফিফা আয়োজিত যাবতীয় প্রতিযোগিতা বয়কট করবে তারা। এশীয় ফুটবল সংস্থাও রয়েছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। একাধিক দেশ জানিয়েছে, আগামী বছর নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না তারা। ফলে ইনফান্তিনোর গদি টলমল। যদিও আফ্রিকার দেশগুলি এখনও রয়েছে ফিফা প্রেসিডেন্টের পাশে।
