নেইমার জুনিয়র। প্রকৃত অর্থে ব্রাজিল ফুটবলের শেষ সুপারস্টার। একটা সময় মেসি-রোনাল্ডোর পরই তাঁর নাম উচ্চারিত হত। কিন্তু সেই নেইমার এবার কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার মুখে। চোট আঘাত, বেহিসাবি জীবনযাপন, খারাপ পারফরম্যান্স তাঁর কেরিয়ারকে ক্রমে পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে চলতি বছর বিশ্বকাপে তাঁর সুযোগ পাওয়া একপ্রকার অসম্ভব মনে হচ্ছে। আর সেটা বুঝতে পেরেই সম্ভবত তিনি অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন।
সদ্য এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, "আমি এখন একটা একটা করে বছর ধরে এগোচ্ছি। এ বছরটা আমার এবং ব্রাজিলের জন্য খুব জরুরি। আমি নিজের সেরাটা দিতে চাই। তারপর হতেই পারে ডিসেম্বরে এসে আমি অবসর নেওয়ার কথা ভাবছি।" ৩৪ বছরের ওই ব্রাজিল তারকার কথায়, "আমি জানি না এরপর কী হবে। আগামী বছর কী হবে সেটাও জানি না। আপাতত এই বছরটার কথাই ভাবছি। পরের বছর কী হবে পরে ভেবে দেখব। যা মন বলে তাই করব।"
২০২৩ সাল থেকে পেশির চোটে ভুগছেন নেইমার। গত বছর জানুয়ারিতে স্যান্টোসে যোগ দেওয়ার পরও চোট মুক্ত হতে পারেননি। ক্লাবের অবনমন বাঁচাতে চোট নিয়েই মাঠে নেমে পড়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই স্যান্টোসের হয়ে ১৫০টি ম্যাচ খেলার বিরল নজির তৈরি করেন নেইমার। কিন্তু গত মরশুমের শেষে চোট সারাতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। সেই অস্ত্রোপচারের পর ফিট হয়ে ম্যাচে ফেরাটা বেশ কঠিন নেইমারের পক্ষে। অন্তত বিশ্বকাপের আগে সেটা অসম্ভব মনে হচ্ছে।
আসলে বহুদিন ধরেই ব্রাজিল দলের বাইরে নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে শেষবার খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর দু'বছরের বেশি সময় তাঁর গায়ে বিখ্যাত হলুদ জার্সি ওঠেনি। যোগ্যতা অর্জন পর্বে ডাক পাননি। নেইমারের জন্য সমস্যার বিষয় হল, অ্যান্সেলোত্তির অধীনে একটা ম্যাচও তিনি খেলতে পারেননি। যার ফলে তাঁকে সেভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ পাননি ইটালিয় কোচ। বরং তিনি নেইমারের বিকল্প হিসাবে একঝাঁক তরুণকে দিয়ে দল সাজিয়ে ফেলেছেন। নেইমার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, "এ বছরটা বেশ জরুরি। শুধু স্যান্টোসের জন্য নয়। ব্রাজিলের জাতীয় দলের জনও। কারণ এটা বিশ্বকাপের বছর। আমার জন্যও বছরটা খুব জরুরি। এ বছরটা আমি নিজের ১০০ শতাংশ দিতে চাই।" কিন্তু নেইমারের আদৌ বিশ্বকাপ খেলা হবে কি? নাহলে ব্রাজিলিয় ফুটবলের আরও এক তারা অকালে ঝরে পড়বে।
