বিশ্বকাপের নকআউটে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে স্পটকিক নেওয়ার আগে ঠিক কী বলেছিলেন, তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা। অনেকের দাবি, শট নেওয়ার ঠিক আগে পর্তুগিজ তারকা ফিসফিস করে উচ্চারণ করেছিলেন ‘বিসমিল্লাহ’। আবার অনেকে মনে করছেন, তিনি আসলে পর্তুগিজ ভাষায় নিজেকেই উৎসাহ দিয়ে ‘ভামোস লা’ (চলো) অথবা ‘ভাইস মারকার’ (তুমি গোল করবে) বলেছিলেন।
৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান রোনাল্ডো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি তাঁর প্রথম গোল। সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। রোনাল্ডোর মুখে ঠিক কী শব্দ শোনা গিয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয় চর্চা। মধ্যপ্রাচ্যের নেটিজেনরা বলেন, রোনাল্ডো ‘বিসমিল্লাহ’ বলেছিলেন। তবে পর্তুগালের একাংশের সমর্থকদের বক্তব্য, ভিডিওর শব্দ থেকে নিশ্চিতভাবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তাঁদের মতে, রোনাল্ডো সম্ভবত নিজের মাতৃভাষাতেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করছিলেন। ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে যোগ দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে রোনাল্ডোর বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে এই বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে।
২০২৩ সালে আল নাসেরে যোগ দেওয়ার পর থেকে রোনাল্ডোকে একাধিকবার আরবি শব্দ ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘শুকরান’-এর মতো প্রচলিত আরবি শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন একাধিকবার। ‘বিসমিল্লাহ’ ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শব্দ। এটি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ যার অর্থ ‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লার নামে’। মুসলিমরা সাধারণত কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগে এই বাক্যাংশ উচ্চারণ করে থাকেন। অনেক নেটিজেন মনে করছেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে পেনাল্টি থেকে গোল করার আগে এ কথা বলেছিলেন সিআর ৭।
তবে রোনাল্ডো ওই মুহূর্তে ঠিক কী বলেছিলেন, সে বিষয়ে পর্তুগাল দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। রোনাল্ডোও কিছু বলেননি। ফলে ভাইরাল ভিডিও ক্লিপিং দেখে কখনওই বলা সম্ভব নয় যে, তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ই বলেছিলেন। যদিও ভিডিওটি নিয়ে চর্চা এখনও জারি। উল্লেখ্য, প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের সামনে স্পেন।
