shono
Advertisement
Brazil vs Morocco Preview

নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিরুদ্ধে নামবে ব্রাজিল, কেমন হবে আন্সেলোত্তির প্রথম একাদশ?

দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা। এরকমটা অপেক্ষা করতে হয়েছিল রোমারিও-বেবেতোদেরও। অবশেষে এই আমেরিকার মাটিতেই ট্রফিহীন দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
Published By: Arpan DasPosted: 10:21 AM Jun 13, 2026Updated: 03:20 PM Jun 13, 2026

ভারতীয় সময় শুক্রবার রাত ২ টোয় ব্রাজিল (Brazil) কোচ আন্সেলোত্তি যখন ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে সঙ্গী করে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে ঢুকলেন, তার আগেই দু’দুটো সিদ্ধান্ত বেসক্যাম্পে বসেই নিয়ে এসেছেন তিনি। যা নিয়ে ব্রাজিল সংবাদমাধ্যমও যথেষ্ট আলোড়িত। কারণ, ঘটনা ঘটার পিছনের কিছু সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।

Advertisement

নেইমার যে শনিবার বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) অভিযানের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর (Morocco) বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে থাকবেন না, এই তথ্য আর নতুন করে পরিবেশন করার মধ্যে কোনও বাহাদুরি নেই। বরং এটা জানানো ভাল, সকালে কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফেসিলিটিতে প্র্যাকটিস শেষ করে হোটেল ‘দ্য রিজ’-এ পৌঁছেই পুরো কোাচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনায় বসে পড়েন। আর সেখানেই প্রথম ম্যাচের প্রথম একাদশে নেইমারের না থাকার সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত শিলমোহরের ছাপ দেওয়া হয়। নেইমার যে প্রথম ম্যাচে প্রথম দলে থাকবেন না, জানাই ছিল। তাহলে কোন একাদশ নিয়ে শনিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন সেলেকাওরা?

আপাতত যা জানা যাচ্ছে, তাতে প্রথম একাদশটা আন্সেলোত্তি এভাবে সাজাচ্ছেন, আলিসন, দানিলো, মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারাইস, লুকাস পাকেতা, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং রাফিনহা। যার মানে তিতের দলের অন্তত আটজন ফুটবলার, শনিবার আন্সেলোত্তির দলে প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেতে চলেছেন।

এদিন শুরুতে সাংবাদিকদের মিনিট ১৫ মাঠে উপস্থিত থাকতে দেওয়ার সময় কোনও ট্যাকটিকাল প্র্যাকটিসই করালেন না আন্সেলোত্তি। পরে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের থেকে যা জানা গেল, তাতে মাঠ ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর ডিফেন্ডারদের বিরুদ্ধে ফরোয়ার্ডের ফুটবলারদের নিয়ে আলাদা করে কিছু অনুশীলন করান ব্রাজিল কোচ। সেখানে কখনও কখনও লেফট-ব্যাকে অ্যালেজান্দ্রোর জায়গায় ডগলাস সান্তোসকে এবং আক্রমণে কুনিয়ার জায়গায় ইগর থিয়াগোকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে নেন আন্সেলোত্তি। যা খবর পাওযা গেল, এদিন প্র্যাকটিসে ঠিক হয়েছে, বল যখন প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আন্সলোত্তির দল চলে যাবে ৪-৪-২ ফর্মেশনে। এই পরিস্থিতিতে মাথেউস কুনিয়া বাম প্রান্তে নিচে নেমে রক্ষণ সামলাবেন এবং পাকেতা থাকবেন ডান প্রান্তে। এই ফর্মেশনে ভিনিসিয়াস জুনিয়র আর রাফিনহা আক্রমণে আরও বেশি করে যেতে পারবে।

এদিন প্র্যাকটিসে অদ্ভুত একটা জিনিস দেখা যায়। একটি রিস্টব্যান্ড রয়েছে সবার হাতে। এগুলি না কি সেট পিস অনুশীলনের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাগুলি একটি কাগজে লিখে রিস্টব্যান্ডের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। দলের সহকারী কোচ ফ্রান্সেসকো মাউরি, যিনি ব্রাজিলের সেট পিস অনুশীলনের দায়িত্বে আছেন, তিনিই এদিন প্র্যাকটিস শুরুর আগে আন্সেলোত্তিকে এই ডিভাইসটি পরীক্ষা করে দেখাচ্ছিলেন। দেখা যাচ্ছিল, আন্সেলোত্তি আবার এই রিস্টব্যান্ডটি নিয়ে অনেকক্ষন ক্যাসেমিরোর সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে এই পরিকল্পনা ব্রাজিল শুধু প্র্যাকটিসেই ব্যবহার করবে। ম্যাচে নয়। কিন্তু যেভাবে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার চারদিন আগেই নেইমারের সঙ্গে কোচের মিটিংয়ের খবর প্রকাশ হয়ে পড়েছে, তাতেই শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা।

রোমারিও বলেছেন, "এমন কোনও খেলোয়াড় নেই যারা চাপ অনুভব করে না। সবাই কম-বেশি চাপ অনুভব করে, কিন্তু কেউ কেউ এই চাপটাকেই ইতিবাচক হিসেবে কাজে লাগিয়ে দেয়। কিন্তু তার জন্য সব সময় একজন তারকা ফুটবলারকে এগিয়ে আসতেই হবে, যে চাপের মুখে পুরো দলের ভবিষ্যত বদলে দেবে।"

জানা যাচ্ছে, সেই 'কফি উইথ নেইমারের’ আলোচনাতেই নাকি কোচ সরাসরি ব্রাজিলিয়ান তারকাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের দলে তাঁকে রেখে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে সেই আলোচনাতেই না কি জানিয়ে দেন, দলের অধিনায়কত্ব হারাতে চলেছেন। পাশাপাশি প্রথম একাদশে নয়, আপাতত দ্বিতীয় একাদশের ফুটবলার হিসেবেই তাঁকে ভাবা হচ্ছে। কারণ, তিনি থাকা মানে ড্রেসিংরুমের মনোবল অনেকটাই বেড়ে যায়। যে কারণে নেইমারের চোট নিয়ে চারিদিকে নানা সমালোচনা শুরু হলেও আন্সোলত্তি মূল দলে রেখে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে।

দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা। এরকমটা অপেক্ষা করতে হয়েছিল রোমারিও-বেবেতোদেরও। অবশেষে এই আমেরিকার মাটিতেই ট্রফিহীন দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটে। ব্রাজিলিয়ান সংবাদ মাধ্যমের বন্ধুদের কাছে জানা গেল, ৯৪-এর সেই মুহূর্ত উল্লেখ করে না কি প্রথম ম্যাচে ভিনিসিয়াসরা মাঠে নামার আগে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন রোমারিও। বলেছেন, "এমন কোনও খেলোয়াড় নেই যারা চাপ অনুভব করে না। সবাই কম-বেশি চাপ অনুভব করে, কিন্তু কেউ কেউ এই চাপটাকেই ইতিবাচক হিসেবে কাজে লাগিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ এই চাপের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। '৯৪ সালেও আমাদের এমনটাই ঘটেছিল, আমার তো মনে হয়, এবারও তেমন কিছুই ঘটবে। কিন্তু তার জন্য সব সময় একজন তারকা ফুটবলারকে এগিয়ে আসতেই হবে, যে চাপের মুখে পুরো দলের ভবিষ্যত বদলে দেবে।"

হেক্সা জয়ের লক্ষ্যে আপাতত নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের সেই তারকা ফুটবলার কে হবেন, যতক্ষণ না মরক্কোর বিরুদ্ধে দল মাঠে নামছে, বোঝার উপায় নেই। সবাই তাকিয়ে সেই তারকার দিকেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement