ফের স্বপ্নভঙ্গ। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ ইটালি। প্লেঅফ পর্বের শেষ ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে পরাস্ত হল আজ্জুরিরা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল শেষবার বিশ্বকাপে খেলেছিল ২০১৪ সালে। তারপর ইউরো কাপ জিতেছে। কিন্তু বিশ্বকাপে আর খেলা হয়নি। এবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। জেনারো গাতুসোর প্রশিক্ষণাধীন দল টাইব্রেকারে হারল ১-৪ গোলে। ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র অর্জন করলেন এডিন জেকোরা।
২০০৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইটালি। সেই দলে ছিলেন বর্তমান কোচ গাতুসো। তারপরের বিশ্বকাপে 'চ্যাম্পিয়ন কার্স' মাথায় নিয়ে গ্রুপে সবার শেষে ছিল ইটালি। ২০১৪ সালেও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। সেই অধঃপতন ক্রমশ চলেছে ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে। আশ্চর্যের বিষয়, বিশ্বকাপের টিকিট না পেলেও ২০২০ সালে ইউরো কাপ জেতে ইটালি। কিন্তু জিয়ালুইজি বুঁফোরা আজ্জুরিদের যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই ব্যাটন বহন করতে ব্যর্থ জিয়ালুইজি ডোনারুমারা।
ইউরোপ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ায় প্লেঅফে খেলতে হয়। সেখানে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারান স্যান্দ্রো তোনালিরা। অন্যদিকে ওয়েলসকে হারিয়ে তাদের মুখোমুখি হয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তুলনায় 'দুর্বল' প্রতিপক্ষ পেয়ে প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন ফেদেরিকো ডিমার্কোরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠ জেনিকায় গিয়ে একরাশ হতাশা ইটালির জন্য। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের পর ইটালি ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেছে, ম্যাচও জিতেছে। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি।
১৬ মিনিটে আজ্জুরিদের এগিয়ে দিয়েছিলেন মোইসে কিন। কিন্তু ৪২ মিনিটে বিপদ বাঁধে তাঁদের ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখায়। ৮০ মিনিটে হ্যারিস তাবাকোভিচের গোলে সমতা ফেরায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। অ্যাসিস্ট করেন বহু যুদ্ধের ঘোড়া ৪০ বছর বয়সি এডিন জেকো। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে প্রথম শটটাই মিস করে ইটালি। পরে আরেকটি শটও মিস করে তারা। অন্যদিকে টানা চারটি শটই জালে জড়িয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ২০১৪-র পর আবার বিশ্বকাপে খেলবে ইউরোপের দেশটি। অন্যদিকে সেই হতাশার আঁধার ইটালির জন্য।
