প্রথমবার ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ। ফুটবলের মহাযুদ্ধে কে হবে বিশ্বজয়ী? কী হবে হট ফেভারিট দেশগুলোর রণকৌশল? কেমন হতে পারে সেরা একাদশ? শক্তি-দুর্বলতাই বা কী? চুলচেরা বিশ্লেষণে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। আজ আলোচনায় ফ্রান্স।
গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ: বিশ্বকাপে ফ্রান্স রয়েছে 'আই' গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল (১৭ জুন), ইরাক (২৩ জুন) ও নরওয়ে (২৭ জুন)।
ফ্রান্স স্কোয়াড: মাইক ম্যানিওঁ, ব্রিস সাম্বা ও রবিন রিসার (গোলকিপার)। দায়োট উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকা দিগনে, থিও হার্নান্দেজ, লুকাস হার্নান্দেজ, ইব্রাহিমা কোনাতে, জুলস কুন্দে, মালো গুস্তো ও ম্যাক্সেঁ ল্যাক্রোয়া (রক্ষণভাগ)। এনগোলো কন্তে, আদ্রিয়েন রাবিওট, মানু কোনে, অরেলিয়ান চুয়ামেনি, ওয়ারেন জায়ার-এমেরি (মাঝমাঠ)। মাঘনেস আকলিউশ, কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে, দেসিরে দুয়ে, ব্র্যাডলি বারকোলা, রায়ান চেরকি, মার্কাস থুরাম, জিন-ফিলিপ মাতেতা (আক্রমণ)।
কোচ: দিদিয়ের দেশঁ
সম্ভাব্য একাদশ: মাইক ম্যানিওঁ (গোলকিপার), জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োট উপামেকানো, থিও হার্নান্দেজ (ডিফেন্ডার), অরেলিয়ান চুয়ামেনি, আদ্রিয়ান রাবিওট, রায়ান চেরকি (মাঝমাঠ), উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিস (আক্রমণ)।
শক্তি: ১৯৯৮ ও ২০১৮-র চ্যাম্পিয়ন দেশ ফ্রান্স। গতবার ফাইনালে উঠেও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি দল।
- তারকা বোঝাই দল। প্রতিটি বিভাগে বিশ্বের সেরা ফুটবলার রয়েছেন।
- বিশ্বকাপ মানেই এমবাপের দাপট। গতবার ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেন। সদ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে এসেছেন উসমান ডেম্বেলে। বায়ার্নের ওলিস বা ম্যাঞ্চেস্টার সিটি-র চেরকিরাও যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারেন।
- শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। বয়স হলেও এনগোলো কন্তে এখনও 'ইঞ্জিন'। তাঁকে থাকতে হবে রিজার্ভে। দেসিরে দুয়ের মতো প্রতিভাবান উইঙ্গার প্রথম দলে সম্ভবত থাকবেন না।
- গতি ও শক্তির সংমিশ্রণ। রক্ষণে সালিবা কী করতে পারেন, তা আর্সেনাল ভক্তরা ভালোমতো জানেন। সঙ্গী হবেন উপামেকানো। দুই সাইডব্যাক কুন্দে ও হার্নান্দেজ ওঠানামা করে খেলেন। মাঝমাঠে চুয়ামেনি স্তম্ভ। আর আক্রমণে এমবাপে, ডেম্বলেদের গতি সামলাতে কালঘাম ছুটবে বিপক্ষের।
দুর্বলতা:
- ফ্রান্স দলে সবাই তারকা। বিশেষ করে এমবাপের 'ইগো' দলীয় সংহতিতে প্রভাব ফেলে কি না, সেটা দেখার। রিয়াল মাদ্রিদ কিন্তু এবার ভুগেছে। আর ব্যালন ডি'অর জয়ী সতীর্থ ডেম্বেলে এবার আর ছায়া হয়ে থাকতে চাইবেন না।
- সাইড ব্যাক কুন্দে এবার বার্সেলোনার হয়ে সেরা ফর্মে ছিলেন না। হার্নান্দেজ চোটপ্রবণ। ঠিক সময় রক্ষণে নামেন না। উপামেকানো ছোট ছোট ভুলে বায়ার্নকে বিপাকে ফেলেছেন। আচমকা খেই হারানো বা মাথা গরমের প্রবণতা আছে চুয়ামেনি-র্যাবিওটদের।
এক্স ফ্যাক্টর: এমবাপে, দেম্বেলে আছেন। তবে মাইকেল ওলিসকে নিয়ে সাবধানী থাকা উচিত বিপক্ষ দলের। বায়ার্নের হয়ে এই মরশুমে ২২টি গোল ও ২৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন ২৪ বছর বয়সি তারকা। চমকে দিতে তৈরি পিএসজি'র তরুণ তুর্কি দেসিরে দুয়ে। এই মরশুমে ১৩টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট আছে।
রণকৌশল: এই বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছাড়বেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ। গত ১০ বছরে ফ্রান্সের সব সাফল্যের মূল দাবিদার তিনিই। তারকাদের ম্যানেজ করতে সিদ্ধহস্ত। বড় ম্যাচের চাপ নিতে জানেন। এবার আর ৪-৩-৩ ছকে নয়, সম্ভবত ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলাবেন। চেরকি অ্যাটাকিং মিডিও ছাড়াও 'নম্বর ১০' বা উইংয়ে খেলতে পারেন। দেম্বেলে দু'পায়ে সচল। তাই এমবাপে'কে প্রচলিত স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও পরে উইংয়ে সরে আসবেন। আক্রমণের বাকি তিনজন সেই জায়গাটা নেবেন। উচ্চতার জন্য অধিকাংশ প্লেয়ারই হেডে গোল করতে পারেন।
সম্ভাবনা: ফ্রান্স যে গ্রুপে আছে, সেটাকে 'গ্রুপ অফ ডেথ' বললে ভুল বলা হয় না। চমকে দিতে পারে নরওয়ে। ফ্রান্স গ্রুপ শীর্ষে থাকলে সি, ডি, এফ, জি বা এইচ গ্রুপের রাউন্ড অফ ৩২-এ তৃতীয় স্থানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু রাউন্ড অফ ১৬-তে দেখা হতে পারে জার্মানির সঙ্গে। কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষায় থাকবে নেদারল্যান্ডস। সেমিতে স্পেন। ফ্রান্সের যা শক্তি, বিশ্বজয়ী হওয়ার সমস্ত শক্তি রয়েছে। অন্তত সেমি পর্যন্ত যাওয়া উচিত।
