অনুশীলন শেষে ডান পায়ে বিশাল একটা বরফের ব্যান্ডেজ বেঁধে স্টেডিয়াম ছাড়ছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। সেই ছবি দেখে কিছুটা দূরে দাঁড়ানো মোহনবাগান সমর্থকরা তাঁর নাম ধরে ডাকলেও এদিন আর ওদিকে তাকালেনই না এই অজি তারকা। গাড়িতে উঠে সতীর্থদের সঙ্গে বেড়িয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ আগেই আবার অনুশীলন চলাকালীন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন অভিষেক সিং। যদিও জানা গিয়েছে, তাঁর চোট মারাত্মক কিছু নয়। তবুও ডার্বির দুদিন আগে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে বাকি সময় অভিষেককে আর অনুশীলন করাননি কোচ সের্জিও লোবেরা। ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাঁকে।
এই চিত্রের পাশাপাশি আরও একটা ইতিবাচক ছবি এদিন ধরা পড়ল মোহনবাগান অনুশীলনে। সেটা আপুইয়ার পুরোদমে অনুশীলন। আগের ইন্টার কাশী ম্যাচে আপুইয়া ছিলেন না। সেই ম্যাচে মাঝমাঠ একেবারে অবিন্যস্থ দেখিয়েছে। এই ম্যাচে আশা করা যাচ্ছে আপুইয়া ফিরছেন। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ছিলেন না আলবার্তো রডরিগেজও। তিনিও এই ম্যাচে ফিরছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবার ডার্বিতে মোহনবাগান রক্ষণে টম অলড্রেড ও আলবার্তো থাকবেন। লোবেরার বড় চিন্তা আক্রমণভাগ সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোল না পাওয়া। তার উপর ম্যাকলারেনের পায়ে বরফ দেখে চিন্তা বাড়ল মোহনবাগান সমর্থকদের। তবে শনিবার বোঝা যাবে ম্যাকলারেনের চোট আদৌ কতটা গুরুতর। এদিন ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেল দিমিত্রি পেত্রাতোসকে। ফুলবাগানের এক খুদে সমর্থক রূশান দেবনাথের উপহার দেওয়া ফটো ফ্রেম নিয়ে তাকে উৎসাহিত করলেন দিমিত্রি। এর আগে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া এই মোহনবাগানীকে নিজের খেলার সামগ্রী উপহার দিয়েছিলেন। এদিন ফটো ফ্রেম উপহার গ্রহণ করে দিমিত্রি ছবি তুললেন তার সঙ্গে।
এদিকে যত সময় এগোচ্ছে ততই যেন আইএসএল ডার্বির উত্তাপ বাড়ছে শহর কলকাতায়। আপাতত যা জানা গিয়েছে, ডার্বির আটচল্লিশ ঘন্টারও আগে টিকিট প্রায় শেষের মুখে। রবিবার যাতে ম্যাচ শেষে সমর্থকরা বাড়ি ফিরতে পারেন তার জন্য ২০০টি বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে। ম্যাচ শেষে থাকছে মেট্রো ও ফেরির ব্যবস্থাও।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলে অনুশীলন করেননি প্রভসুখন গিল। চিন্তা বেড়েছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের। এদিন পুরোদমে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার অনুশীলন করলেন। বহুবছর পর লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ইস্টবেঙ্গল। স্বাভাবিকভাবেই লাল-হলুদ সমর্থকরা উজ্জীবিত। এদিন অনুশীলনেও দেখা গেল সেই চিত্র। অনুশীলন শেষে ইস্টবেঙ্গল কোচ যখন বেরোচ্ছিলেন তখন তাঁদের চ্যান্ট শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেই লাল-হলুদ কোচ অস্কার।
এদিন সেট পিসে জোর দিয়েছিলেন অস্কার। চোটের জন্য ডার্বিতে সল ক্রেসপো আর কার্ড সমস্যার জন্য সৌভিক চক্রবর্তীর না থাকাটা কিছুটা হলেও দলগঠনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং অস্কারের কাছে। ক্রেসপোকে বাকি দুই ম্যাচেই পাওয়া যাবে না। যদিও সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রক্ষণে তিন ডিফেন্ডারের বদলে চার ডিফেন্ডার খেলাতে পারেন অস্কার। সেক্ষেত্রে আনোয়ার আলি, কেভিন সিবিয়ের দু'পাশে মহম্মদ রাকিপ এবং জয় গুপ্তার খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মোহনবাগানের আক্রমণভাগে জেসন কামিংস ও জেমি ম্যাকলারেনদের আটকাতেই চার ডিফেন্ডারে আসতে পারেন অস্কার। তবে এই মুহূর্তে গোটা দল যথেষ্টই চাঙ্গা রয়েছে। কিছুদিন আগেই লাল-হলুদ কোচ বলেছিলেন, ধাপে ধাপে তিনি লক্ষ্য স্থির করেছেন। প্রথমেই চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্য নিয়ে নামেননি তিনি। প্রথমে ছয়ের মধ্যে থেকে তারপর ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্য স্থির করেছেন। আর এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এসে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। সেই সুযোগ আর হাতছাড়া করতে চান না তাঁরা।
যদি শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয় তুলে নিতে পারত মোহনবাগান, তাহলে এই ডার্বিতে বেশ চাপে থাকত লাল-হলুদ শিবির। কিন্তু ইন্টার কাশীর সঙ্গে মোহনবাগান গোলশূন্য গোল ড্র করে সেই চাপ নিজেদের উপরই বাড়িয়ে তুলেছেন দিমিত্রি পেত্রাতোস-ম্যাকলারেনরা। এই মুহূর্তে লিগ টেবলে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয় স্থানে মোহনবাগান। দুই দলের পয়েন্টই ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট। কিন্তু গোল পার্থক্যে এগিয়ে ইউসেফ আজেজারিরা। আর এই ডার্বিতে যদি জয় পেয়ে যান তাঁরা, তাহলে আইএসএল জয়ের আরও কাছে পৌঁছে যাবে ইস্টবেঙ্গল।
