২২ বছরের অপেক্ষা অবসান। অবশেষে ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল। ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হল লাল-হলুদ বাহিনী। ১৩ ম্যাচে পয়েন্ট ২৬। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন ইস্টবেঙ্গলেরই ইউসেফ এজ্জেজারি। ঠিক কোন পাঁচ মন্ত্রে লিগ চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে বিশ্লেষণে প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। যিনি শুধু লাল-হলুদের ঘরের ছেলে নন, ইস্টবেঙ্গলের প্রথম জাতীয় লিগ জয়ের কোচ ছিলেন তিনি।
খোঁচা খাওয়া বাঘ: আর্জেন্টিনা গত বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হেরে অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু তারপর চ্যাম্পিয়ন হয়। এই ইস্টবেঙ্গলের সেই লড়াকু মানসিকতা আছে। নকআউটে ভুলভ্রান্তি হলে কামব্যাকের সুবিধা থাকে না। কিন্তু লিগ পর্যায়ে থাকে। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে সেটা ফের প্রমাণিত হল। বেঙ্গালুরু ম্যাচটা মনে আছে? মিগুয়েল লাল কার্ড দেখার পরও কিন্তু ম্যাচ ড্র করেছিল। শেষ মুহূর্তে গোল করে ১ পয়েন্ট এনে দিয়েছিলেন অ্যান্টন সোয়বার্গ। ওটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল।
ধারাবাহিকতা: শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল কিন্তু ধারাবাহিক। বিশেষ করে মহামেডানকে ৭ গোল দেওয়ার পরই বোঝা যায়, টিমটা কতটা শক্তিশালী। তবে ধারাবাহিকতা নির্ভর করে প্লেয়ারদের ক্ষমতা ও ফিটনেসের উপর। বিশেষ করে লিগ পর্যায়ে ধারাবাহিকতা খুবই দরকারি। সিঙ্গল লেগে হওয়ায় একটু সুবিধা হয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকতায় ইস্টবেঙ্গল সবার থেকে সেরা। নিঃসন্দেহে গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ খেলেছে।
টিম স্পিরিট: একটা ম্যাচে ১১টা প্লেয়ার খেলেন। বেশ কয়েকজনকে পরিবর্তন করতে হয়। অনেককে বাইরে বসে থাকতে হয়। কিন্তু তারপরও কোচ ও প্লেয়ারদের মধ্যে সেই সম্পর্কটা তৈরি করতে হয়। একটা বন্ডিং দরকার। একটা চ্যাম্পিয়ন দলে সেটা থাকে। ইস্টবেঙ্গলে সেটা আছে। মরশুমের শুরুতে অস্কারকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। চার ম্যাচ আগে কেন বিদায় জানাল, সেটা নিয়ে কথা হয়েছে। সেটা প্লেয়ারদের প্রভাবিত করেছে বলে মনে হয়।
হোম অ্যাডভান্টেজ: এবার সিঙ্গেল লেগ ফরম্যাটে হওয়ায় একটা সুবিধা হয়েছে। অনেক ম্যাচ ঘরের মাঠে হয়েছে। তাতে সমর্থকদের পাশে পেয়েছে। শেষ ম্যাচে চাপের মুখেও কিন্তু সমর্থকরা হাল ছাড়েননি। স্টেডিয়ামে যে ১০০ জন এসেছেন, সেই ১০০ জনই ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। ইন্টার কাশী নিঃসন্দেহে ভালো দল। কিন্তু এই চাপটা নেওয়া সহজ কাজ নয়। কাশী মোহনবাগানের সঙ্গে ড্র করেছে ঠিকই, কিন্তু ওরকম সব ম্যাচে হয় না।
গোল পার্থক্য: ইস্টবেঙ্গল একটা জায়গায় মানসিকভাবে এগিয়ে নেমেছিল। সেটা হল গোলপার্থক্য। খেলায় ভুলভ্রান্তি হয়েছে ঠিকই। তবে ঠিক সময়ে কামব্যাক করেছে। মহামেডানের বিরুদ্ধে ৭ গোল করেছে। ইউসেফ সর্বোচ্চ গোলদাতা। সব দিক থেকেই ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে ছিল।
তাহলে কি ডার্বিতে প্রভসুখন গিলের সেভটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল? সেটা মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য মনে করেন না। তাঁর সাফ বক্তব্য, "গিল সেভ করেছে ঠিকই। আবার অনেক গোল মিসও তো হয়েছে। বল বারে লেগেছে। ফুটবলে এগুলো চলেই। তবে এটা ঠিক যে ডার্বিতে জেতা উচিত ছিল। ডার্বিতে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত।"
