অনেক-অনেক দিন পর ডার্বি (Kolkata Derby) ঘিরে ফের কলকাতা উত্তাল। কলকাতা বলা অবশ্য ভুল হল। বলা ভালো বাংলা উত্তাল। ৬২ হাজার টিকিটের সবটাই নিঃশেষিত। অনেক-অনেক দিন পর সবাই একটা ডার্বির টিকিট চাইছেন। আর চাইবেন না কেন? ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান, দু’দলের হাতেই একটা করে ম্যাচ বাকি থাকলেও রবিবাসরীয় ডার্বিটাই যে এই মরশুমের আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন নির্ণায়ক ম্যাচ হতে চলেছে, এই সহজ-সরল সত্যটুকু বোঝার জন্য বিশাল ফুটবল বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।
কারণ, শেষ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে মুখোমুখি হতে হবে ইন্টার কাশীর। যে দলের কোচ হাবাস বিদায় নিয়েছেন। আর ঠিক সময়ে ফুটবলারদের বেতন দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ফিফার ব্যানের তালিকায় রয়েছেন তাঁরা। উলটো দিকে মোহনবাগানের শেষ ম্যাচ এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে। যারা জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে দল তৈরি করে মাত্র ১১ পয়েন্ট নিয়ে বসে আছে। এমত অবস্থায় আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য রবিবাসরীয় ডার্বিটাই যে ফাইনাল ম্যাচের স্বীকৃতি পাবে, বলাই বাহুল্য।
আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য রবিবাসরীয় ডার্বিটাই যে ফাইনাল ম্যাচের স্বীকৃতি পাবে, বলাই বাহুল্য।
সদ্য রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বদলে যাচ্ছে অনেক কিছুই। শনিবার যেমন দেখা গেল, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাথায় থাকা আগের সরকারের বিশ্ববাংলা লোগো বদলে দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে লাগানো হচ্ছে অশোক স্তম্ভ। ডার্বিতে মাঠে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। ক্রীড়ামন্ত্রী ডার্বিতে মাঠে আসবেন, ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ডার্বি দেখতে যুবভারতীতে উপস্থিত থাকবেন কি না, এখনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে শনিবার যুবভারতী প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে জানান, মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী দু’জনকেই ডার্বি দেখতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে যুবভারতীতে দর্শকদের প্রবেশ নিয়ে যে বেশ কড়াকড়ি হবে বলাই বাহুল্য।
দর্শকদের মাঠে প্রবেশের আগে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা অতিক্রম করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক স্লোগান কিংবা বর্ণবিদ্বেষমূলক স্লোগান লেখা টিফো নিয়ে কোনও সমর্থককেই মাঠে প্রবেশ করতে দেবে না পুলিশ। সেরকম শব্দবাজি নিয়েও গ্যালারিতে প্রবেশে বাঁধা থাকবে সমর্থকদের।
দর্শকদের মাঠে প্রবেশের আগে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা অতিক্রম করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক স্লোগান কিংবা বর্ণবিদ্বেষমূলক স্লোগান লেখা টিফো নিয়ে কোনও সমর্থককেই মাঠে প্রবেশ করতে দেবে না পুলিশ।
এহেন পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর মনে পড়ছে দেড় বছর আগে লাল-হলুদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা। এদিন প্র্যাকটিসে নামার আগে বলছিলেন, ‘‘যখন আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন ইস্টবেঙ্গল লিগ টেবিলের একদম নিচে ছিল। আর দেড় বছর পর আমরা যখন মরশুম শেষ করার দিকে যাচ্ছি, তখন সবার সামনে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। এই দেড় বছরে পুরো দলটার এই যে মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ, ফুটবলে একটা ম্যাচ জেতা সব সময় শুধুই টেকনিক্যাল ব্যাপার নয়। কিছু কিছু সময় মানসিকতার ব্যাপারও।’’ উলটো দিকে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা বলছিলেন, ‘‘প্রতিপক্ষ কী করছে, তা নিয়ে আমার ভাবার দরকার নেই। আমাদের নিজেদের দক্ষতার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। সব সময় অতিরিক্ত আবেগ কোনও কিছুর জন্যই ভালো নয়।’’
ইস্টবেঙ্গলে কার্ড সমস্যায় যেরকম সৌভিক চক্রবর্তী খেলতে পারবেন না, সেরকম চোটের জন্য ডার্বিতে নেই ক্রেসপোও। মোহনবাগানে অবশ্য এরকম কোনও সমস্যা নেই। চোট সারিয়ে ডার্বি খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছেন আপুইয়াও। কিন্তু আগের দিন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলার মাঝপথে চোটের জন্য বসে যাওয়া আনোয়ার কি খেলতে পারবেন? ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো বললেন, ‘‘আসলে আনোয়ারের যা চোট, ওকে মরশুমটা এভাবেই চালাতে হবে। এমনিতে এইরকম মাসল চোটে অন্তত একমাস বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু চোট সারানোর জন্য আনোয়ার বিশ্রামের সেই সুযোগটাই পাচ্ছে না। চাইলে ও বিশ্রাম নিতে পারত। কিন্তু দলের প্রয়োজনে চোট নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আমি এরকম মানসিকতার ফুটবলারকেই চাই।’’
ইস্টবেঙ্গলে কার্ড সমস্যায় যেরকম সৌভিক চক্রবর্তী খেলতে পারবেন না, সেরকম চোটের জন্য ডার্বিতে নেই ক্রেসপোও। মোহনবাগানে অবশ্য এরকম কোনও সমস্যা নেই। চোট সারিয়ে ডার্বি খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছেন আপুইয়াও।
উভয় কোচই নিজের নিজের মতো করে ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা করছে। উভয় দলই দাঁড়িয়ে আছে ২২ পয়েন্টে। কিন্তু গোল পার্থক্যে এগিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এটুকুই যা সুবিধা ইস্টবেঙ্গলে। নাহলে মোহনবাগান সভাপতি প্র্যাকটিসে এসে যা বললেন, তাতে যথেষ্ট চাপের কারণ হতে পারে লাল-হলুদের জন্য। দেবাশিস দত্তর বক্তব্য হল, ‘‘উভয় দলে ১১ জনের খেলা হলে মোহনবাগান নিশ্চিতভাবেই জিতবে। কিন্তু অন্য দল ১৪ জনে খেললে মুশকিল হয়ে যাবে।’’ স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগের তির যে রেফারির দিকে, বলাই বাহুল্য। তবে শেষে যা বললেই সেটাই হক কথার এক কথা, ‘‘টুটু বোসের আশীর্বাদ আমাদের উপর রয়েছে। কালকের ম্যাচ জিতে আইএসএল জিততে পারলে, সেটাই হবে টুটুদাকে সত্যিকারের সম্মান জানানো।’’ তাছাড়াও পোস্ট করা হয়েছে মোহনবাগানের তরফেও। প্রসঙ্গত, রবিবার ডার্বি শুরুর আগে প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি টুটু বোসের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন হবে।
