চলতি বছরের ৭৯ তম বছরে পা দিল কান চলচ্চিত্র উৎসব (Cannes Film Festival)। সেই সঙ্গে কানের লাল গালিচায় অভিষেক হল লাফটারসেনের (Laughtersane )। পরনে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি। সঙ্গে কালো কোট। হাতে পুরনো দিনের ঘড়ি। চোখে একেবারে সাবেকি ফ্রেমের চশমা। একেবারে 'বাঙালিবাবু' সেজে কানের মঞ্চ কাঁপালেন লাফটারসেন নীরঞ্জন মণ্ডল (Niranjan Mandal)। এহেন বিশ্বমঞ্চে এই প্রথমবার বাংলার কোনও কনটেন্ট ক্রিয়েটার পা রাখলেন। একেবারে আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানা নিয়ে কানের লাল গালিচা মাতালেন তিনি।
কখনও মজার ভিডিও, কখনও স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবেদনশীল ভিডিও বানিয়ে সকলের নজর কাড়েন। গত বছর অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশের পর এবার বিশ্বমঞ্চে বাংলার, বাঙালির প্রতিনিধিত্ব করছেন ইনফ্লুয়েন্সার নিরঞ্জন। তাঁর কেরিয়ারের এই উত্থান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশ্বমঞ্চে নিরঞ্জনের উপস্থিতি-সাজসজ্জা দেখতে মুখিয়ে ছিল অগণিত অনুরাগী। কানে পৌঁছেই সোশাল মিডিয়ায় বেশ কিছু মুহূর্ত সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। কখনও দুধ সাদা পোশাকে তো কখনও আবার রঙিন পোশাকে লেন্সবন্দি হন নিরঞ্জন।
রবিবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় তাঁর কান লাল গালিচার ছবি ভাইরাল হয়। এদিন যেন একেবারে 'বাঙালিবাবু' তিনি। কানের মঞ্চে পা রেখে কেমন অভিজ্ঞতা লাফটারসেনের? মুখে চওড়া হাসি। সাংবাদিকদের জবাবে নীরঞ্জনদের বলেন, "বেশ নার্ভাস লাগছে। আবার উত্তেজিতও।" তাঁর পোশাক আশাক সম্পর্কেও পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেন। হাতে থাকা ঘড়িরও ব্যাখ্যা দেন। সাংবাদিককে হাসিমুখে ওই ঘড়ির মর্ম বোঝান লাফটারসেন।
এর আগে শনিবার ফ্রান্সে পৌঁছে ছাত্রজীবনেক কথা শুনিয়েছিলেন লাফটারসেন। কারণ, একদিন শিক্ষকের কাছ থেকে নাকি শুনতে হয়েছিল, তিনি জীবনে খুব বেশি দূর এগোতে পারবেন না। তারই জবাবে ফ্রান্সে বসে গণিতের এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ার-এর স্মৃতিচারণ করেন। একবার তিনি এই ফর্মূলা ভুলে গিয়েছিলেন। তাই তাঁর শিক্ষক হেঁয়ালি করে বলেছিলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি দূর এগোতে পারবেন না। সেই লাইনটি স্মরণ করেই লাফটারসেন মজা করে বলেন, "ফ্রান্স দিয়ে জার্নি শুরু করলাম। তবুও কাঁদছি, কারণ এখনও আমি এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ারের ফর্মূলা মনে করতে পারছি না।" বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটারের কান যাত্রায় আপাতত মুগ্ধ অনুরাগীরা। শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন নীরঞ্জন।
