আপাতত থেমে থাকা। তার পর সুযোগ বুঝে ফের ঝাঁপিয়ে পড়া। এটাই আমেরিকার স্ট্র্যাটেজি। এখনই ইরানের উপর হামলা করতে চায় না আমেরিকা। চিন থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ থাকা সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন। তবে সেই সঙ্গেই তিনি জানান যে, হোয়াইট হাউস তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কেবল পাকিস্তানের জন্যই। ট্রাম্পকে বলতে শোনা গিয়েছে, "আমরা অন্য দেশের অনুরোধে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। আমি সত্যিই এর পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু আমরা পাকিস্তানের অনুরোধেই মেনে নিয়েছিলাম। ওখানকার অসাধারণ মানুষ, ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে।"
অপারেশন এপিক ফিউরি ২। পেন্টাগনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই 'অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০' নামের একটি বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই সপ্তাহে মার্কিন সংসদের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে সে দেশের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো সমস্ত পরিকল্পনা তাঁদের কাছে তৈরি রয়েছে। কিন্তু তার আগে একটু বিরতি নিতে চাইছে আমেরিকা। পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামতে চাইছে তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, আরব দুনিয়ার দুই শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। এই সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে জোরকদমে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তবে পেন্টাগন ধীরেই চলতে চাইছে।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। এখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু আমেরিকা কি সত্যিই নতুন করে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে না? সাম্প্রতিক রিপোর্ট কিন্তু দাবি করছে, ট্রাম্প মুখে যাই বলুন ভিতরে ভিতরে নতুন করে ইরানে হামলা করার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। সবে তিনদিনের চিন সফর সেরে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা আপাতত অপেক্ষা করছেন ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের। যদি সত্যিই তিনি এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে ফের আমেরিকা সামরিক শক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙার পথেই হাঁটতে পারে। অন্তত রিপোর্টের দাবি তেমনই।
বুধবার তিন দিনের চিন সফরে বেজিংয়ে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক দফায় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন তিনি। এরপর শুক্রবারও বৈঠক করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। প্রথম দফায় আলোচনার পরেই জিনপিংকে প্রশংসায় ভরান ট্রাম্প। বলেন, জিনপিং একজন 'অসাধারণ নেতা'। সেই সঙ্গেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকা যে বিপজ্জনক, এই বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে একমত হয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট।
