দীর্ঘ পাঁচটা মাস যেন এক অনন্ত প্রতীক্ষা! আইএসএল নিয়ে নানান টালবাহানা, মেসি ইভেন্টের জখম - সব কিছু কাটিয়ে ভালোবাসার দিনের বিকেলে যুবভারতীতে বল গড়াল। মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়েই শুরু হল আইএসএল। জেমি ম্যাকলারেন, টম অলড্রেডের গোলে জয় দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ লিগের অভিযান শুরু সবুজ-মেরুনের। যা নিয়ে খুশি মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস এবং সভাপতি দেবাশিস দত্ত। আগামী বছর কলকাতা লিগে ঘরের মাঠে খেলবে মোহনবাগান, সেই সুখবরও দিলেন কর্তারা।
সৃঞ্জয়ের কথায়, "দল ভালো খেলেছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল ফুটবলাররা দারুণ গতিশীল ফুটবল উপহার দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে জেতাটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন পর ফুটবল হল। অনুশীলন ম্যাচ খেলা আর লিগের ম্যাচ খেলা তো এক নয়। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। যেভাবে দল খেলছে, তাতে আশা তো করাই যায়।" বাগানের অন্দরমহলে ফুরফুরে পরিবেশটাকেও মাঠে দেখা গিয়েছে শনিবার। সবুজ-মেরুনের ‘প্রাণভোমরা’ দিমিত্রি পেত্রাতোসের উপর ভরসা রেখেছিলেন কোচ। তাঁকে মাঠেও দেখা গেল আরও বেশি পরিণত, আরও বেশি চনমনে। "খুব ভালো খেলেছে দিমি। অনেক রোগা হয়েছে। প্রচণ্ড পরিশ্রম করে খেলছে।" বলে দিলেন সবুজ-মেরুন সচিব। তবে কেরালা প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলছিল যখন, সেই সময় কিঞ্চিত চাপে পড়ে গিয়েছিল দল, সে কথা স্বীকার করলেন। তবে কর্নারগুলো বক্সে প্লেয়ারদের হেডের কাছে গিয়েছে বলে খুশি তিনি।
"খুব ভালো খেলেছে দিমি। অনেক রোগা হয়েছে। প্রচণ্ড পরিশ্রম করে খেলছে।" বলে দিলেন সবুজ-মেরুন সচিব সৃঞ্জয় বোস।
বাঙালি অস্মিতা রক্ষায় গ্যালারিতে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকদের। ভাষার ঐতিহ্য রক্ষায় গর্জে ওঠেন তাঁরা। ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তা নিয়ে তাঁরা সোচ্চার। বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে টিফো এনে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন। তাতে লেখা, ‘বাঙালি ভারতকে দিয়েছে সম্মান, শিখিয়েছে মৈত্রী, নেতৃত্ব। আজ বাংলা বললে সে ‘বাংলাদেশি’: ধর্ম সংকটে ভ্রাতৃত্ব।’ এই প্রসঙ্গে সৃঞ্জয়ের সংযোজন, "সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বাংলা ভাষা, বাঙালিদের বিরুদ্ধে যে বিদ্বেষ দেখা যাচ্ছে এখন, তা নিয়ে গর্জে উঠে ভালো করেছে ওরা। এদিন প্রায় ৩০ হাজার সমর্থক মাঠে এসেছিলেন। প্রচুর ফ্যান ক্লাবও এসেছে। সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করব মরশুম জুড়ে তাঁরা মাঠে হাজির থাকবেন।"
দেবাশিস দত্ত বলেন, "মোহনবাগান জিতেছে। এর জন্য খুবই আনন্দিত। তবে এত দিন পর ফুটবলটা যে আজ মাঠে গড়াল, সেটাই সবথেকে আনন্দ দিয়েছে। ফুটবলকে মাঠে ফিরিয়ে আনায় যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। আশা করি আইএসএল খুব ভালোভাবে হবে। মোহনবাগানও চ্যাম্পিয়ন হবে।" তিনি মনে করেন এদিনের ম্যাচের মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবল অক্সিজেন পেল। "ফুটবল যখন শুরু হল তখন অক্সিজেন পেল। তবে আমার মনে হয়, পরে যে টেন্ডারটা আসবে তা আগামী ১৫-২০ বছরের জন্য হবে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা সিঙ্গেল লেগের লিগ। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানাব। তাঁর জন্যই আমরা নিখরচায় যুবভারতীতে খেলছি। মোহনবাগানই একমাত্র ক্লাব, যারা প্লেয়ারদের টাকা কাটেনি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা আমাদের জন্য বড় সাপোর্ট। আরও একটা কথা বলার আছে। হকিকে অ্যাস্ট্রো টার্ফে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এর জন্য সামনের বছর কলকাতা লিগে ঘরের মাঠেই ফ্ল্যাড লাইটে খেলব। ময়দানে ফুটবল ফিরছে। যা সম্ভবপর হল অ্যাস্ট্রো টার্ফে হকি ফেরায়।" অন্যদিকে, ম্যাচের পর বাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোস বললেন, "এখন ফোকাস পরবর্তী ম্যাচে। কেরালা বধ অতীত।" দিমি আবার ৩ পয়েন্ট পেয়ে খুশি। খুশি মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরাও।
