সমর্থক ছাড়া ফুটবল হয় না। গ্যালারিতে বন্ধ হোক হিংসা। এই মর্মে জামশেদপুরের গ্যালারিতে ব্যানার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মোহনবাগান সমর্থকরা। কিন্তু হিংসা বন্ধ হল কোথায়? সেখানে ফের আক্রান্ত হলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। খেলা শেষে বিনা প্ররোচনায় আক্রান্ত হন তাঁরা। ইট দিয়ে এক সমর্থকের মাথায় মারে জামশেদপুরের সমর্থকরা। দ্রুত তাঁকে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত সমর্থকের নাম রাজীব রায়। ২৮ বছরের ওই সবুজ-মেরুন সমর্থক হাওড়ার বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটে জামশেদপুরের টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খেলা শেষে হামলার শিকার হন রাজীব। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বন্ধু শুভময় জানা। 'সংবাদ প্রতিদিন'কে রাজীব বলেন, "প্রথমবার অ্যাওয়ে ম্যাচ দেখতে এসেছিলাম আমরা। ম্যাচের পর স্টেডিয়ামের বাইরে ৮-১০ জন আমাদের উপর আক্রমণ করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পিছন থেকে ইট এসে মাথায় লাগে। তারপর এই অবস্থা।" জানা গিয়েছে, রাজীবের মাথায় ১০টা সেলাই হয়েছে। স্ক্যানও হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে রাজীবের সঙ্গে রয়েছেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস এবং সভাপতি দেবাশিস দত্ত, কার্যকরী কমিটির সদস্য অনুপম সাহু।
আক্রান্ত সমর্থকের নাম রাজীব রায়। ২৮ বছরের ওই সবুজ-মেরুন সমর্থক হাওড়ার বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটে জামশেদপুরের টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খেলা শেষে হামলার শিকার হন রাজীব।
জামশেদপুরে মোহনবাগান সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত বছর আইএসএল সেমিফাইনালের প্রথম পর্ব দেখতে জামশেদপুরে হাজির হয়েছিলেন মোহনবাগানের অনেক সভ্য-সমর্থক। সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন বনগাঁর রিপন মণ্ডল-সহ সৌরভ সরকার, শিলাজিৎ দাসরাও। ঘটনার সূত্রপাত জামশেদপুরের জাভি সিভেরিও গোল করার পর। সেই সময় সাউথ ওয়েস্ট অ্যাওয়ে গ্যালারিতে মোহনবাগান সমর্থকদের আনা সবুজ-মেরুন পতাকা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল কিছু জামশেদপুর এফসি’র সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
আবারও সেখানে আক্রান্ত সবুজ-মেরুন সমর্থক। এই ঘটনায় আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে সমর্থক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, মোহনবাগান ম্যানেজমেন্টের তরফে জামশেদপুর এফসি’র কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল তাদের সমর্থকদের জন্য আলাদা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করার জন্য। জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ মোহনবাগান ম্যানেজমেন্টের অনুরোধ শুনে চার হাজার চেয়ার বিশিষ্ট একটি স্ট্যান্ড বরাদ্দ করেছিল মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য। জামশেদপুর এফসি’র তরফে সমর্থকদের জন্য একটি কোড অফ কন্ডাক্ট চালু করা হয়েছিল। এসব সত্ত্বেও দুর্ঘটনা এড়ানো গেল না। এই পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন, আইএসএল কর্তৃপক্ষ কি এরপর কঠোর অবস্থান নেবে? উল্লেখ্য, বিপক্ষের ডেরায় এগিয়ে গিয়েও ১-১ ফলাফলে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মোহনবাগানকে।
