শর্ট টার্মের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু করতে গিয়ে ফেডারেশন এবং আইএসএলের ক্লাবদের মধ্যে যে সব গভর্নিং কাউন্সিল, চ্যাটার, তারপর ক্লাব প্রতি ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে নানারকম গল্প প্রকাশিত হয়েছিল, সেসব গল্প আকারেই থেকে গিয়েছে। সব পরিকল্পনাই এখন অতীতের আস্তাকুঁড়ে। যা পরিস্থিতি, তাতে কোনওরকম গভর্নিং কাউন্সিল ছাড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে এই মরশুমের আইএসএল। সঙ্গে, আগে যাই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক না কেন, ক্লাবগুলি এই মরশুমে ১ কোটি টাকা না দিয়েই এই মরশুমের আইএসএল খেলবে। কোনও উপায় না দেখে ফেডারেশন কর্তারা এখন ক্লাবদের অনুরোধের রাস্তায় চলে গিয়েছে। ক্লাবপ্রতি ১ কোটি টাকা না হোক, অন্তত কিছু টাকা দিক, যাতে আইএসএল চালাতে ফেডারেশনের কোনও অসুবিধা না হয়।
কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে এই মরশুমের জন্য যখন শর্ট টার্ম লিগের পরিকল্পনা হয়েছিল, ক্লাবদের সঙ্গে ফেডারেশনের আলোচনার পর ঠিক হয়েছিল, দু'পক্ষ মিলে আইএসএল চালানোর জন্য গভর্নিং কাউন্সিল গঠিত হবে। কিন্তু কোথায় কী? গভর্নিং কাউন্সিল ঠিক করার জন্য ক্লাবগুলির কাছে প্রস্তাবিত চ্যাটার পাঠানো হয়েছিল ফেডারেশনের তরফে। দু'দিন আইএসএলের ম্যাচ হয়ে গেল। কিন্তু ক্লাবগুলি চ্যাটারে সই করেছে বলে এরকম কোনও খবর এখনও পর্যন্ত নেই। আর চ্যাটারে শর্ট টার্ম লিগ শুরু করে দেওয়ার পর খুব দ্রুত লং টার্ম লিগের জন্য টেন্ডার প্রকাশ করার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে ফেডারেশন। চাইছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ২০ বছরের লিগের কমার্শিয়াল পার্টনার পাওয়ার জন্য টেন্ডার প্রকাশ করতে। যেহেতু ২০ বছরের কমার্শিয়াল পার্টনার পাওয়ার জন্য টেন্ডার ডাকা হবে, তাই বুঝে শুনে আলাপ-আলোচনা করে এগোতে চাইছে ফেডারেশন।
সই করেনি মানে, ফেডারেশনের দেওয়া প্রস্তাবগুলি আইএসএলের ক্লাবগুলি মানছে না। সেই চ্যাটারে রয়েছে প্রত্যেকটি ক্লাব আইএসএল খেলার জন্য ১ কোটি টাকা করে দেবে। চ্যাটারে সই করেনি বলেই ধরেই নেওয়া হচ্ছে, ক্লাবগুলি পূর্ব আলোচনামতো কোনও টাকা দেবে না। এর পিছনে কারণ হল, ক্লাবগুলি হিসেব করে দেখেছে, ফ্যানকোড যে টাকা ফেডারেশনকে দিচ্ছে, আর ফেডারেশন যে টাকা দেবে বলেছে, তাতে লিগের খরচ উঠে যাবে। ক্লাবগুলি টাকা দিলে সেই টাকা থেকে ফেডারেশন লিগের খরচের টাকা দেবে, ক্লাবগুলি মানতে চাইছে না। তাই চ্যাটারে সই করেনি। বাধ্য হয়ে ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণ ক্লাবগুলির সঙ্গে আলাদা ভাবে কথাবার্তা চালাচ্ছেন, যদি ক্লাব প্রতি ১ কোটি টাকাও না হয়, তাহলেও অন্তত যদি কিছু টাকা দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে লিগ চালাতে সুবিধা হবে। কারণ, লিগ শুরু হয়ে যাওয়ার পর কিছুতেই লিগ আর বন্ধ করতে চাইছে না ফেডারেশন।
অন্তত পক্ষে একটা জিনিস বোঝা গিয়েছে, রিলায়েন্সের মতো বার্ষিক ৫০ কোটি টাকা খরচ করে কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার ভারতীয় ফুটবলে টাকা ঢালতে এগিয়ে আসবে না। তাই সব দিক বিবেচনা করে টেন্ডার ডাকতে চলেছে ফেডারেশন। একই সঙ্গে বিড করার জন্য প্রায় ২০ দিনের মতো সময়ও দেওয়া হতে পারে। যাতে কর্পোরেট সংস্থাগুলি বিড করার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে পারে। পাশাপাশি স্পোর্টস কোড অনুযায়ী ভারতীয় ফুটবলের যে সংবিধান তৈরি হয়েছে, তা রাজ্য সংস্থাগুলিকেও মেনে চলার জন্য বলবে ফেডারেশন। এই কারণেই খুব দ্রুত সব রাজ্য ফুটবল সংস্থাকে ফেডারেশনে ডেকে পাঠানো হবে। সেখানেই নতুন করে তৈরি হওয়া সংবিধান বুঝিয়ে বলা হবে রাজ্য সংস্থাগুলিকে।
