ইস্টবেঙ্গল ৩ (ইউসেফ ২, মিগুয়েল)
নর্থইস্ট ইউনাইটেড ০
এক-একটা করে মরশুম আর স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। এভাবেই কেটে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের আগের আইএসএল সফরগুলো। এবার কি অন্য ছবি হবে? আইএসএলে জ্বলবে লাল-হলুদ মশাল? সেটার উত্তর তো সময়ই দেবে। তবে আইএসএল অভিযান এত ভালোভাবে কখনই শুরু হয়নি ইস্টবেঙ্গলের। প্রথমবার জয় দিয়ে আইএসএল শুরু করল লাল-হলুদ বাহিনী। যুবভারতীতে প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে হারাল অস্কার ব্রুজোর দল। দু'টো গোল নতুন স্ট্রাইকার ইউসেফ এজেজারির, একটা মিগুয়েলের। ব্যবধান আরও বাড়তেই পারত। সেটা না হলেও 'ছোট' আইএসএলে দলকে নিয়ে বড় আশা করতেই পারেন লাল-হলুদ ভক্তরা।
নর্থইস্ট ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন। তবে লিগ শুরুর অনিশ্চয়তায় সব দলই কমবেশি ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছে। পাহাড়ের দলে নেই তাদের সেরা স্ট্রাইকার আলাদিন আজেরাই। তার উপর ঘরের মাঠে জনসমর্থন নিয়ে নেমেছে ইস্টবেঙ্গল। অস্কার ব্রুজো দল সাজিয়ে ছিলেন ৪-৩-৩ ছকে। মাঝমাঠে তিন বিদেশি। মহম্মদ রশিদ ডিফেন্সের সামনে ব্যারিকেড তুলে দিলেন। আর সল ক্রেসপো ও মিগুয়েল ফেরেরা মিলে ক্রমাগত নর্থইস্ট বক্সে আক্রমণ শানিয়ে গেলেন। মাঝমাঠ দখল নিয়ে নেওয়ায় আনোয়ার আলি ও জিকসনের রক্ষণভাগে সেভাবে চাপ পড়েনি। তবে আক্রমণে বিপিন সিং যতটাই সক্রিয়, ততটাই নিষ্প্রভ নন্দকুমার।
যুবভারতীতে জ্বলছে মশাল। নিজস্ব চিত্র
তবে সব নজর ছিল নয়া স্ট্রাইকার ইউসেফের দিকে। স্ট্রাইকার সমস্যায় ইস্টবেঙ্গল বেশ কয়েক বছর ধরেই ভুগছে। এবছরও হিরোশি-হামিদ মিলে বেশ ভালোই ভুগিয়েছেন। সেখানে ইউসেফ হাজির হলেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে। তবে শুরুর দিকে সেভাবে ছন্দে ছিলেন না। বিপিন বা মিগুয়েল একাধিকবার বক্সে দারুণ ক্রস তুললেও ঠিকঠাক সংযোগ হচ্ছিল না। তবে বারবার ব্যস্ত করে রেখেছিলেন নর্থইস্টে রক্ষণভাগকে। সেই তুলনায় নন্দকুমারের উইং থেকে সেভাবে আক্রমণ আসেনি। প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণ করেও ডেডলক খোলেনি। ৩৬ মিনিটে রশিদের বার কাঁপানো শট অল্পের জন্য জালে জড়াল না। আর ৩৯ মিনিটে বিপিনের ক্রস থেকে কার্যত ফাঁকা গোলে হেড করতে পারলেন না নন্দকুমার।
ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দলকে নিয়ে টিফো যুবভারতীতে। নিজস্ব চিত্র
দ্বিতীয়ার্ধের ছবিটাও একই রকম ছিল। কিন্তু গোলের দরজা কিছুতেই খুলছিল না। ৬২ মিনিটে নন্দকে তুলে এডমুন্ড লালরিন্ডিকাকে নামান অস্কার। তারপর ঠিক মিনিট পাঁচেকের অপেক্ষা। বিপিনের ক্রস অবশেষে সংযোগ হল ইউসেফের মাথায়। নর্থইস্টের গোলকিপার গুরমীত শুধু দাঁড়িয়ে দেখলেন বল জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। ঠিক যে শুরুটার অপেক্ষা ছিল, সেটা পেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। ৭০ মিনিটে এডমুন্ড বাঁপ্রান্ত দিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে। তাঁর পাস থেকে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দিলেন ইউসেফ। আবির্ভাবেই যেন তিনি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে ৩-০ করলেন মিগুয়েল। তিন গোল, তিন পয়েন্ট, দাপটের সঙ্গে জয় দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু, যুবভারতীতে জ্বলল মশাল। আর কী চাই লাল-হলুদ ভক্তদের!
