ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। লন্ডনে ইউনিটি কাপ খেলতে ভারতীয় দল রওনা হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে তীব্র আকার নিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং মোহনবাগানের সংঘাত। ক্লাবের তরফে তাদের সাতজন ফুটবলারকে জাতীয় শিবির ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে এই ফুটবলাররা শনিবার অনুশীলনে অংশ নেননি। এমনকী রাতের উড়ানে লন্ডনে যাচ্ছেন না তাঁরা। প্রশ্ন হল, কেন ফুটবলার তুলে নিল মোহনবাগান? যেহেতু ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলা ইউনিটি কাপ ফিফা উইন্ডোর মধ্যে পড়ছে না, সেই কারণেই তারা জাতীয় দলে ফুটবলার ছাড়তে বাধ্য নয়। শুধু মোহনবাগানই নয়, একই পথে হেঁটেছে কেরালা ব্লাস্টার্সও।
১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফিফা উইন্ডো। তার আগে যদি কোনও ফুটবলার চোট পান, তাহলে চিকিৎসার পুরো দায়ভার ক্লাবের উপরেই পড়ে। সেই ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং ফুটবলারদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফুটবলারদের স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ১ জুনের আগে কোনও চোট লাগলে তার দায়িত্ব ক্লাব নেবে না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁদের নিজেদেরই। উল্লেখ্য, অনিরুদ্ধ থাপা, সাহাল আবদুল সামাদ, লিস্টন কোলাসো, আপুইয়া, মনবীর সিং, সুহেল আহমেদ ভাটরা ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন।
ফিফা উইন্ডো না হওয়ায়, ফুটবলারদের চোট লাগলে তাঁদের চিকিৎসার খরচ কি ফেডারেশন দেবে? জানতে চেয়েছিল মোহনবাগান। কোনও উত্তর দেয়নি ফেডারেশন। ফলে সব মিলিয়ে আইএসএলের ক্লাব বনাম ফেডারেশনের লড়াই অন্য মাত্রা পেতে চলেছে। অন্যদিকে, চোটের কারণে আনোয়ার আলি জাতীয় দলের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন না। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তবে জাতীয় দল ও ক্লাবের টানাপোড়েনে ভারতীয় ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন ইউনিটি কাপের প্রস্তুতিতেও। প্রসঙ্গত, চার দেশের এই টুর্নামেন্টে ভারতের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে নাইজেরিয়া, জামাইকা এবং জিম্বাবোয়ে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের দ্য ভ্যালি স্টেডিয়ামে। ২৬ মে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়া ও জিম্বাবোয়ে। পরদিন, ২৭ মে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জামাইকার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারত। ফাইনাল ৩০ মে।
