৫২ বছর পর বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে দেখা যাবে কঙ্গোকে। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের উচ্ছ্বাসের মাঝেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতির গুরুত্ব খতিয়ে দেখে আগেই নজরদারি শুরু করেছিল ফিফা। এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল আয়োজক দেশ আমেরিকা। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিয়মকানুন নিয়ে কোনও রকম আপস করবে না তারা।
আমেরিকার নির্দেশ অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে কঙ্গো দলের প্রত্যেক সদস্যকে বেলজিয়ামে ২১ দিনের ‘আইসোলেশন বাবল’-এ থাকতে হবে। এই সময়সীমা পূর্ণ না হলে দলকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, “আমরা কঙ্গোকে জানিয়ে দিয়েছি, টানা ২১ দিন আইসোলেশন বাবলে থাকতে হবে। তার পরেই তারা ১১ জুন হিউস্টনে যেতে পারবে। এই নির্দেশ না মানলে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নাও হতে পারে।”
কঙ্গোতে ইবোলা রোগের পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিভিন্ন রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৬০০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ আমেরিকা। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না এই রোগের কারণে আমাদের সীমান্তে কোনও ধরনের বিপদ তৈরি হোক।"
বিশ্বকাপে কঙ্গো রয়েছে গ্রুপ কে-তে। ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে তারা। এরপর ২৩ জুন গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আফ্রিকার দেশটি। ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে 'দ্য লেপার্ডস'রা। ইবোলা পরিস্থিতির কারণে কঙ্গো আগেই নিজেদের প্রস্তুতি শিবির দেশের বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। কিনশাসার বদলে এখন বেলজিয়ামেই চলছে অনুশীলন। পাশাপাশি ডেনমার্ক ও চিলির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথাও রয়েছে। যদিও বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের আগে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে কঙ্গো। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি তাদের লড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যসংকটের সঙ্গেও।
