বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কার্যত শেষ! ব্রাজিলের প্রাথমিক দলে ডাক পাননি। তবে এই আবহে আবারও মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়ালেন নেইমার। স্যান্টোসের জার্সিতে খেলতে নেমে মহিলা রেফারিকে উদ্দেশ্য করে করা এক মন্তব্যকে ঘিরে এখন তোলপাড় ফুটবল মহল। নেইমারের বিরুদ্ধে এখন যৌনবৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে তুমুল সমালোচিত হতে হয়েছে তাঁকে। যার জেরে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন নেইমার।
ঠিক কী হয়েছে? স্যান্টোসের ম্যাচ ছিল ক্লাব দে রেমোর সঙ্গে। ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ী হয় ব্রাজিলীয় ক্লাব। গোল করেন নেইমারও। তবে ম্যাচের মধ্যেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মহিলা রেফারি স্যাভিও প্যারেইরা স্যামপাইও হলুদ কার্ড দেখান নেইমারকে। কার্ড দেখে মেজাজ সপ্তমে চলে যায় ৩৪ বছরের তারকার। এমনকী ম্যাচের পরেও 'রাগ' যায়নি তাঁর। সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যাভিওকে লক্ষ্য করে বলেন, "এই কার্ডটা অন্যায্য। ম্যাচের শেষ দিকে আমি বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হয়েছি। এটা প্রথম নয়, তৃতীয় বা চতুর্থবার। প্রতিবাদ করতে গিয়েই আমি হলুদ কার্ড পেলাম।"
এরপরই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন তিনি। নেইমারের মন্তব্য, "এটাই স্যাভিওর স্বভাব। যেন চিকো হয়ে (খারাপ মেজাজে) ঘুম থেকে উঠে মাঠে এসেছে। সে নিজেই ম্যাচের নায়ক হতে চায়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে না। সবকিছু নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এটা অসম্মানজনক। এসব সামলানো ওর কাছে শেখা উচিত।" ব্রাজিলীয় ভাষায় 'চিকো' শব্দটি মহিলাদের ঋতুস্রাবকে ইঙ্গিত করে। 'এস্টার দে চিকো' বলতে বোঝানো হয়, কেউ ঋতুস্রাবের কারণে খিটখিটে মেজাজে আছেন। অনেকের মতে, এই মন্তব্য নারীদের প্রতি অবমাননাকর এবং যৌন বৈষম্যমূলক।
দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো হার্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেফারি হলুদ কার্ড দেখান নেইমারকে। এরফলে রবিবার মারাকানায় ফ্ল্যামিঙ্গোর বিপক্ষে খেলতে পারবেন না নেইমার। আন্সেলোত্তিকে প্রমাণ দেওয়ার জন্য ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল নেইমারের কাছে। তবে তাঁর এমন মন্তব্য আবারও তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
নেইমারের এহেন মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক মারিয়ানা পেরেইরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এভাবে পিরিয়ডে আছে বলে কাউকে খাটো করা যায় না। বছরের পর বছর ধরে ঋতুস্রাবের জন্য নারীরা লজ্জার শিকার হয়েছে। এটা স্বাভাবিক এক জৈবিক প্রক্রিয়া। যাকে নোংরা হিসাবে দেখা হয়। হরমোনজনিত পরিবর্তন ও শারীরিক কষ্টকেও ছোট চোখে দেখা হয়। এখনও অনেকেই এমন মানসিকতাকে সমর্থন করে।" উল্লেখ্য, দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো হার্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেফারি হলুদ কার্ড দেখান নেইমারকে। এরফলে রবিবার মারাকানায় ফ্ল্যামিঙ্গোর বিপক্ষে খেলতে পারবেন না নেইমার। আন্সেলোত্তিকে প্রমাণ দেওয়ার জন্য ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল নেইমারের কাছে। তবে তাঁর এমন মন্তব্য আবারও তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
গত মাসে ব্রাজিলিয়ান লিগে বেলাগাম মন্তব্যের জন্য ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন রেডবুল ব্রাগান্তিনোর ডিফেন্ডার গুস্তাভো মারকুইস। এবার বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন নেইমারও। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ মে বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। ব্রাজিলের কোড অব স্পোর্টস জাস্টিসের ২৪৩ জি অনুচ্ছেদে এই ধরনের মন্তব্যকে অপরাধের চোখে দেখা হয়। আর এমন শাস্তি পেলে বিশ্বকাপ খেলা হবে না নেইমারের।
