প্রথমবার খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল স্পোর্টসের (Khelo India Tribal Games) ফুটবলে সোনা জিতল বাংলা। রঞ্জন ভট্টাচার্যের প্রশিক্ষণাধীন দল ফাইনালে হারাল ঘরের দল ছত্তিশগড়কে। রায়পুরের কোটায় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে একমাত্র গোলটি করেন চাকু মান্ডি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করেন চাকু।
এই প্রথমবার দেশজুড়ে আয়োজিত হল আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতা। ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০০ ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছিলেন খেলো ইন্ডিয়ার প্রতিযোগিতায়। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ৭টি খেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার মধ্যে এদিন পুরুষদের ফাইনালে ছত্তিশগড়ের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা।
রঞ্জন ভট্টাচার্যের দল সেমিফাইনালে গোয়াকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল। ফলে ফাইনালেও দিলীপ ওরাওঁ বা অমিত টুডুদের উপর প্রত্যাশা ছিল বাংলার ফুটবলভক্তদের। সেখানে প্রথমার্ধে দাপট নিয়ে খেললেও গোলের মুখ খুলছিল না। ১২ মিনিটে পেনাল্টিও মিস করেন বিজয় মুর্মু। প্রথমার্ধের আগে ফের পেনাল্টি পায় বাংলা। এবার আর ভুল করেননি চাকু। ছত্তিশগড়ের গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করে বাঁদিকের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন বাংলার কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এদিন তাঁর মায়ের প্রয়াণবার্ষিকী। পাশাপাশি তাঁর মনে পড়ছিল বছর পাঁচেক আগে সন্তোষ ট্রফি ফাইনালের কথা। সেবারও ভারতসেরা হওয়ার সুযোগ ছিল রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাংলার কাছে। কিন্তু ফাইনালে কেরলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় বাংলা। আর এবার ট্রাইবাল গেমসে ভারতসেরা হয়ে রঞ্জন ভট্টাচার্য বললেন, "সব কৃতিত্ব প্লেয়ারদের। ওরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খেলেছে। আমি শুধু ওদের পথ দেখিয়েছি। মাঠে নেমে ওরাই খেলেছে। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে আমরা দাপট দেখিয়েছি। ফাইনালে প্রথমার্ধেই আমরা ৪ গোলে এগিয়ে যেতে পারতাম। একটা পেনাল্টি মিস হয়েছে। তবে এগুলো খেলার অঙ্গ। দ্বিতীয়ার্ধে ওরা সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপালেও আমাদের ডিফেন্স শক্তিশালী ছিল। আমি ফুটবলারদের বলে রেখেছিলাম, কী আছে কী নেই, ভেবে লাভ নেই।"
তিনি আরও বললেন, "ম্যাচের শেষ দু'মিনিটে আমার ৫ বছর আগে সন্তোষ ট্রফি ফাইনালের কথা মনে পড়ছিল। সেবার টাইব্রেকারে হেরেছিলাম। এদিন চ্যাম্পিয়ন হয়ে ৩০ শতাংশ ক্ষত কমল। যেন একটা গাঁট কাটল। সেই দলের প্লেয়ার দিলীপ ওরাওঁ আজ আমার দলে আছে। আর আজ আমার মায়ের প্রয়াণবার্ষিকী। ৪০ বছর আগে এই দিনে মাকে হারাই। চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেটার যন্ত্রণাও যেন কিছুটা কমল।"
ফুটবলারদের সঙ্গে কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য
