চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল (FIFA World Cup 2026) এলে কত শত কাহিনি প্রসবিত হয়। কখনও ফুটবল ঘিরে। কখনও ফুটবলের বরপুত্রদের নিয়ে। কখনও বা নিছক অংশগ্রহণকারী টিমের ছাউনি নিয়ে। ইংরেজিতে যাকে বলে, 'বেসক্যাম্প স্টোরিজ'!
কেন, গত বার কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার গল্পখানা মনে নেই? সে বার কাতারের পাঁচ তারা হোটেলে থাকেইনি আর্জেন্টিনা। বদলে তারা বেছে নেয় কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হলকে! কারণ, কাতার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আউটডোর বিশাল ছিল। যেখানে 'বার-বি-কিউ' করা যেত অনায়াসে। মনে পড়ে, প্রায় আড়াই হাজার কেজি মাংস আর্জেন্টিনা টিম উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে! বিলাসবহুল হোটেলের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য না হলেও চলবে। কিন্তু 'বার-বি-কিউ' মাস্ট! অতি আবশ্যক!
১৯৭০ বিশ্বকাপের পাস্তা বিপ্লব ভুলে গিয়েছেন নাকি? সেবার মেক্সিকোয় প্রিয় পাস্তা না পাওয়ায় রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন ইটালীয় ফুটবলাররা। শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে পাস্তা, পাস্তার পাচক সব কিছু নিয়ে আসা হয়! '৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড কোচ অ্যালফ র্যামসে আবার টিম ছাউনিকে পুরোদস্তুর সেনা ছাউনিতে রূপান্তরিত করে ফেলেছিলেন! ইংল্যান্ড কোচের কড়া নির্দেশিকা ছিল- বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবলাররা কোনও রকম ফুর্তি-ফার্তা করতে পারবেন না! তাঁদের অষ্টপ্রহর সেনা-শৃঙ্খলার বেষ্টনীতে দিন কাটাতে হবে। প্লেয়ারদের স্ত্রী-বান্ধবী, কারওরই সে সেনা ছাউনিতে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। যে জীবন নিয়ে পরবর্তীতে ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড জিমি গ্রিভসের বক্তব্য রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে যায়। গ্রিভস যে বন্দি-জীবনের তুলনা করেছিলেন কুখ্যাত জেলখানা 'আলকাত্রাজ'-এর সঙ্গে!
অবশ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-ব্রুনো ফার্নান্ডেজদের কপাল ভালো যে, কোচ রবার্তো মার্টিনেজ আর যা-ই হন, অ্যালফ র্যামসের মতো দোর্দণ্ডপ্রতাপ চরিত্র নন! পর্তুগাল (Portugal) যদি শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতে, তা হলে মার্টিনেজের 'বেসক্যাম্প স্টোরি'-ও লোকগাথা হয়ে থাকবে নিশ্চিত। তবে সে তা র্যামসের মতো 'জেলখানা' নয়। খোলা হাওয়া। সমুদ্র সৈকতের খোলা হাওয়া। ইংরেজিতে যাকে বলে 'বিচ থেরাপি'!
আজ, বুধবার রাতে হিউস্টনে কঙ্গোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে পর্তুগাল (Portugal vs DR Congo)। কিন্তু রোনাল্ডোরা সেখানে গেলেন মঙ্গলবার। তার আগে পর্যন্ত ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকতে মাঝে মাঝেই ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে পর্তুগাল প্লেয়ারদের। "সমুদ্র সৈকতে যাওয়া আমাদের পরিকল্পনারই একটা অংশ ছিল। যাতে পরিবেশ-আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়,” বলে দিয়েছেন ম্যাথেউস নুনেজ। ইপিএলে যিনি খেলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে। কিন্তু আচমকা সমুদ্র সৈকতে টিম গেল কেন? "কী করার আছে? আমি গোটা বছর ম্যাঞ্চেস্টারে কাটাই। কিন্তু সেখানে এত গরম কখনও থাকে না। মারাত্মক তফাত হয়ে যাচ্ছে আবহাওয়ায়। সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে তো।"
