'অফেন্স ইস দ্য বেস্ট ডিফেন্স'। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (UEFA Champions League) পিএসজি বনাম বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচ দেখে এ কথাটাই বলতে হয়। আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবলে সাবধানী বা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। ওপেন ফুটবলের চেয়ে এখন হিসাব কষে এগোন কোচেরা। সেখানে এই ম্যাচ যেন অন্য গল্প লিখল। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৫-৪ ব্যবধানে জয়ী হল পিএসজি।
এই ম্যাচকে অনেকেই তুলনা করছেন জোহান ক্রুয়েফের দর্শনের সঙ্গে। ডাচ কিংবদন্তি ফুটবলের ইতিহাসে কেবল একজন খেলোয়াড় বা কোচ হিসাবে নন, বরং একটি অন্যন্য দর্শনের নির্মাতাও। তিনি ফুটবলে 'আক্রমণাত্মক' ও 'নান্দনিক' খেলার ধারণাকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর দর্শন মূলত 'টোটাল ফুটবল' এবং পজিশনাল খেলার উপর গড়ে উঠেছিল। একসময় তিনি বলেছিলেন, "১-০ নয়, আমি ৫-৪ স্কোরলাইনে জয় পেতে চাই।" চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই ম্যাচ যেন ক্রুয়েফের দর্শনেরই প্রতিচ্ছবি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণের ঝড় তোলে। আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। দুই দলই সমান তালে আক্রমণে ওঠে। পিএসজি এক পর্যায়ে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। মাইকেল অলিস ও হ্যারি কেনের নেতৃত্বে জার্মান ক্লাবটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনে ৫-৪-এ। পুরো ম্যাচে গড়ে প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে গোল হয়েছে। যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও খেলার হাইলাইট চলছে। পিএসজি'র হয়ে জোড়া গোল করেন খিভিচা কাভারাস্কেলিয়া
ও উসমান দেম্বেলে। বাকি একটি গোল জোয়াও নেভেসের। বায়ার্নের হয়ে গোল করেন হ্যারি কেন, মাইকেল ওলিসে, ডায়োট উপামেকানো ও লুইস ডিয়াজ।
ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লিভারপুলের প্রাক্তন ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার বলেন, "সাধারণত এমন স্কোরলাইন দেখলে মনে হয় ডিফেন্স খারাপ খেলেছে। কিন্তু আমি বলব, মাঠে থাকা প্রত্যেক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ই দশে ৮ বা ৯ পাওয়ার যোগ্য ছিল। কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে ছিল না। এটা এমন ম্যাচ ছিল না যেখানে গোলকিপার বা ডিফেন্ডাররা বড় ভুল করেছে। বরং প্রত্যেক গোলই ছিল অসাধারণ। যা দেখে আপনি বলবেন, 'ওহ মাই গড, অবিশ্বাস্য!' ডিফেন্স ভালো করেও অনেক সময় কিছু করা যায় না।" বায়ার্নের ডিফেন্ডার ডায়োত উপামেকানোর খেলার প্রশংসা করেন তিনি। পাঁচ গোল হজম করেও অন্যতম সেরা পারফর্মারদের একজন ছিলেন এই ফরাসি ফুটবলার।
ন'গোলের থ্রিলার দেখে কেউ কেউ তুলনা করছেন ২০০৫ সালের 'মিরাকল অফ ইস্তান্বুল' বা ২০১৭ সালের বার্সেলোনার 'লা রেমোনতাদা'র সঙ্গে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে লিভারপুলের ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও এসি মিলানের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন 'ইস্তান্বুলের অলৌকিক ঘটনা' নামে পরিচিত। ‘লা রেমনতাদা’ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি'র বিপক্ষে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। সেই ম্যাচে তারা প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হেরে গিয়েও দ্বিতীয় লেগে ৬-১ ব্যবধানে জিতে মোট ৬-৫ গোলের ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে অনেকের মতে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি বনাম বায়ার্ন মিউনিখের এই 'মহাকাব্যিক' ম্যাচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যাচ।
