শুক্রবার অসমের ডিব্রুগড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের কর্মসূচি ছিল। তারই জেরে যানজটে আটকে পড়া বাংলা যখন মাঠে পৌঁছাল, তখন পৌঁনে দু'টো। সন্তোষ ট্রফির (Santosh Trophy) সূচি অনুযায়ী ঢেকুয়াখানা স্টেডিয়ামে দুপুর দু'টো থেকে গ্রুপ পর্বের বাংলা-অসম ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত চল্লিশ মিনিট দেরিতে ম্যাচ শুরু হয়।
কিন্তু কেন এমন অবস্থা? শুক্রবার সকাল ৯.৫০ মিনিটে হোটেল থেকে স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা দেয় বাংলা। যেহেতু হোটেল থেকে মাঠ প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। তাই প্রতিদিন হাতে সময় নিয়েই মাঠে যান সঞ্জয় সেনরা। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে মাঠে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল দলের। কিন্তু পৌনে দু'টোয় পৌঁছল তারা। এখানেই শেষ নয়। ম্যাচ খেলে উঠেও ফেরার পথে বিপত্তিতে পড়ে বাংলা দল।
জানা গেল, শুক্রবার সন্ধ্যা ৫.২৫ মিনিটে ঢেকুয়াখানা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে শনিবার ভোর ৪.৪৪ মিনিটে টিম হোটেলে পৌঁছয় বাংলা দল। অর্থাৎ আড়াই ঘণ্টার পর যেতে সময় লাগে প্রায় ১২ ঘণ্টা। শুক্রবার সারাদিন ডিব্রুগড়ে অমিত শাহর একাধিক কর্মসূচি যেমন ছিল, তেমনই ছিল মিসিং জনজাতির উৎসব। সেখানেও যোগ দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তাই রাতভর যানজট যন্ত্রণায় পড়েন রবি হাঁসদা, আকাশ হেমব্রমরা।
বাংলা কোচ বলেন, "এত যানজট যে সময়ে পৌঁছাতে পারিনি। কোনও রকমে মাঠে নেমেছে ছেলেরা। ফেরার সময়ও যানজটে আটকে।"
তাছাড়াও অভিযোগ, স্টেডিয়াম যাওয়ার পথে শুরু থেকে পুলিশের এসকর্টও দেওয়া হয়নি বাংলা দলকে। এমন অভিজ্ঞতায় বিরক্ত সঞ্জয় সেন। ফেরার পথে বাংলা কোচ বলেন, "এত যানজট যে সময়ে পৌঁছাতে পারিনি। কোনও রকমে মাঠে নেমেছে ছেলেরা। ফেরার সময়ও যানজটে আটকে। ছেলেদের জন্য চিন্তিত। কল্যাণ চৌবের কাছে প্রশ্ন করা উচিত এসব নিয়ে।"
এ প্রসঙ্গে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, "চূড়ান্ত অব্যবস্থা। এত বড় রাজনৈতিক ইভেন্টের দিনে কেন খেলা দেওয়া হল? সেরকম কোনও পরিকল্পনাই নেই। এসকর্ট দেওয়া হল না। এগুলো ফেডারেশনকে জানাব।" ম্যাচ কমিশনারকেও অভিযোগ করেছে বাংলা। উল্লেখ্য, ১-১ গোলে ড্র করেও গ্রুপ শীর্ষ থেকেই শেষ আটে গেল দল। শুরুতে আকাশ হেমব্রমের গোলে এগিয়ে যায় বাংলা। ঋতুরাজের পেনাল্টিতে সমতা ফেরায় অসম।
