বার্সেলোনা। প্যালাউ সাঁ জর্দি এরিনা। হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে পেপ গুয়ার্দিওলার (Pep Guardiola) মুখে শোনা গেল ইসলামিক সম্ভাষণ। তাঁর গায়ে তখন জড়ানো কেফিয়েহ। যা কিনা প্যালেস্তিনিয়দের প্রতি সহানুভূতির প্রতীক। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল কোচ বলে উঠলেন, 'আমি নিরপেক্ষ নই। প্যালেস্টাইনের পক্ষে।' যারা বদ্ধ ঘরে বসে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা সবাই কাপুরুষ। যারা সবটা জেনেও প্রতিবাদ করে না বিশ্বের সেই সব রাষ্ট্রনেতা ভীরু।
বার্সেলোনার প্যালাউ সাঁ জর্দি এরিনায় প্যালেস্তাইনে মানবাধিকার থেকে বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন পেপ। যার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ফুটবল বিশ্বে সুপরিচিত। খেলার মাঠে তাঁর দলগুলির দাপট গোটা বিশ্ব একবাক্যে স্বীকার করে। সেই কিন্তু মাঠের বাইরে তিনি মিতভাষী। কোনও বিতর্কিত বিষয়ে সচরাচর মুখ খোলেননা। সেই পেপ গুয়ার্দিওলা হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বলে দিলেন, আমি প্যালেস্টাইনের পক্ষে মানবাধিকারের পক্ষে।
ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কোচ বলছেন, গত দু’বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়া আর টেলিভিশনের পর্দায় যেসব ছবি ভেসে উঠছে, সেগুলো দেখলে মনে হয় গোটা বিশ্ব যেন চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ধ্বংসস্তুপের মাঝে যে শিশুটে মা-কে খুঁজছে, তাঁর প্রশ্নের কোনও জবাব আছে কি আমাদের কাছে?" পেপ বলছেন, "আমরা ওদের একা ছেড়ে দিয়েছি। ক্ষমতাবান দেশগুলো জানে কী হচ্ছে, তবু নীরব। এই নীরবতা ভয়ংকর।"
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে... তাঁরা যে একই সারিতে সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিলেন বিশ্বখ্যাত ফুটবল কোচ। তাঁর কথায়, "কখনও কখনও নীরবতা অন্যায়ের সহাবস্থানের সমান। এটা রাজনীতি নয়, মানবতার প্রশ্ন। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত যারা নেয় তারা বন্ধ ঘরে বসে থাকে। আর বলি হতে হয় সাধারণ নিরস্ত্র মানুষকে।" বিশ্বের তাবড় নেতাদের উদ্দেশে তাঁর আক্রমণ, "শক্তিধর রাষ্ট্রনেতারা আসলে কাপুরুষ। নিজেরা ঝুঁকি না নিয়ে অন্যদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন।"
