ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা বেজে গিয়েছে। সব দলেরই প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর্জেন্টিনা যেমন বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলল। মেসি-ওটামেন্ডিরা ৫-০ গোলে জিতেই দেশকে 'বিদায়' জানালেন। অন্যদিকে চেনা ছন্দে ফিরল ব্রাজিল। লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। নেইমারের অভাবও বুঝতে দেননি তাঁরা। আবার রোনাল্ডোকে ছাড়াই আমেরিকাকে ২-০ গোলে হারাল পর্তুগাল।
ফুটবল দুনিয়ায় ধারেভারে আর্জেন্টিনার থেকে বহু ক্রোশ পিছিয়ে জাম্বিয়া। বুয়নেস আইরেসে মেসিদের জয় নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। ৪ মিনিটে গতবারের বিশ্বজয়ীদের এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ। ৪৩ মিনিটে গোল করেন মেসি। পেনাল্টি থেকে ফের গোল করতেই পারতেন। তবে দেশের মাটিতে 'শেষ' ম্যাচে বহুযুদ্ধের সৈনিক নিকোলাস ওটামেন্ডিকে পেনাল্টি মারতে দেন। ৬৮ মিনিটে জাম্বিয়ার ফুটবলাররা নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেয়। ৯০ মিনিটে ৫-০ করেন ভ্যালেন্টিন বার্কো।
তিনমাস পর ফুটবল বিশ্বকাপ। এই ম্যাচের পর একেবারে আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোয় আয়োজিত বিশ্বকাপে ফের নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে মেসিকে। তারপর কি খেলবেন ৩৮ বছর বয়সি কিংবদন্তি? সম্ভবত না। নিজেও জানেন, দেশের মাটিতে এই ম্যাচই তাঁর ফেয়ারওয়েল। ম্যাচের পর কান্নার বেগ সামলাতে পারছিলেন না। 'লা বোমবোনেরা' স্টেডিয়ামে সমর্থকরা স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেন, গানে-স্লোগানে ভরিয়ে দেন মেসিকে। গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে 'মেসি মেসি' ধ্বনি। আর কান্না সামলাতে পারেননি ৯০২ গোলের মালিক। মাঠেই কেঁদে ফেলেন। বিশ্বকাপের পর যে আর তাঁকে নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে না, তা যেন বুঝিয়েই দিলেন।
ঠিক যেন বিপরীত ভাগ্য হতে চলেছে নেইমারের। বিশ্বকাপের দলে তাঁর থাকা নিয়ে প্রবল সংশয়। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কার্লো আন্সেলোত্তির দল যেভাবে খেলল, তাতে নেইমারের অভাব অনেকটাই পুষিয়ে দিলেন ভিনিসিয়াস, জোয়াও পেদ্রোরা। গোটা ম্যাচজুড়ে গতি ও স্কিলে লুকা মদরিচের বিপদে ফেলেছিল সেলেকাওরা। হাফটাইমের ঠিক আগে ভিনি একক দক্ষতায় বল টেনে গিয়ে দানিলোকে সাজিয়ে দেন। অভিজ্ঞ সাইডব্যাক গোল করতে ভুল করেননি। ৮৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরালেও ম্যাচ শেষের আগে ইগর থিয়াগো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি পরপর গোল করে ব্রাজিলকে জিতিয়ে দেন।
অন্যদিকে আমেরিকার বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জিতল পর্তুগাল। গোল করলেন ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও ও জোয়াও ফেলিক্স। দু'টো গোলেরই অ্যাসিস্ট ব্রুনো ফার্নান্দেজের। প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরের সঙ্গে ড্র করল স্পেন। জাপানের কাছে হেরে গেল ইংল্যান্ড। এই প্রথমবার এশিয়ার কোনও দেশের কাছে হারল ইংরেজরা।
