সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর হস্তক্ষেপে অবশেষে কেটেছে আইএসএল জট। উপস্থিতিতে ক্লাবগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ফেডারেশন। তাঁর সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে বসে ক্লাবগুলি। সেখানে আইএসএলের সম্ভাব্য রোডম্যাপ জানিয়ে দেওয়া হয় ক্লাবগুলিকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দল নিয়ে আইএসএল শুরু হচ্ছে। যদিও লিগ শুরু হলেও সমস্ত ক্লাবকেই বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আইএসএল বাঁচাতে কমাতে হতে পারে ফুটবলারদের বেতনও। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচাতে সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক বেঙ্গালুরু এফসি কর্ণধার পার্থ জিন্দাল। মুখ খুলেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকারও।
এক্স হ্যান্ডেলে পার্থ জিন্দাল লেখেন, 'বর্তমান ফর্ম্যাটে আইএসএল খেলতে গেলে সকল ক্লাবের কাছেই বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে বলা হচ্ছে। যা সত্যিই অভাবনীয়। লিগ না হলে এর পরিণতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হবে। এই সুযোগে মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে তাঁর হস্তক্ষেপ ও প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আশা করি, ফুটবলাররা ক্লাবগুলোর ওপর পড়া অতিরিক্ত আর্থিক চাপটা বুঝবেন। তাঁরাও ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি হবেন। কারণ আমরা একই সঙ্গে এই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি।'
তাঁর সংযোজন, 'ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এটা করছি। একটাই লক্ষ্য, আমাদের দেশ যেন সুন্দর এই খেলাটা খেলতে পারে এবং তাতে আরও ভালো হতে পারে। আমার যতটুকু মনে পড়ে, ততদিন ধরেই ফুটবল প্রত্যেকের কাছে লোকসানের ব্যবসা। এ বছরের যা আর্থিক হিসাব, তাতে খেলোয়াড়দের সাহায্য ছাড়া অনেক ক্লাবের পক্ষেই টিকে থাকা অসম্ভব। হয়তো অনেকেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হতে পারে।'
অন্যদিকে, মরোক্কান স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ইস্টবেঙ্গল। সোমবার সন্ধেয় লাল-হলুদের তরফে জানানো হয়, দু'পক্ষের সম্মতিতেই এই 'বিচ্ছেদ'। হামিদের বিকল্প কে? জানা গিয়েছে, বিদেশি ফুটবলার নেওয়া নিয়ে লাল-হলুদ হেড কোচ অস্কার ব্রুজোর সঙ্গে কথা বলেছেন ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি জানান, ইস্টবেঙ্গলে নতুন বিদেশি নিয়োগের বিষয়ে থাংবই সিংটো ইমামি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন।
আইএসএল নিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের ক্লাবের তরফ থেকে সব সময় বলা হয়েছিল, লিগ হবে। সেই বিশ্বাসটা ছিল, রয়েছে। তবে আইএসএল নিয়ে বাজেটের প্রভাব ইস্টবেঙ্গলে আপাতত নেই। কাল কী হবে কেউ জানে না। তবে একটা বিষয় খুব সত্যি কথা, যারা ইনভেস্ট করে তাদের কথাও ভাবতে হয়। আবার খেলোয়াড়দের কথাও ভাবতে হয়। এবার আইএসএলে অর্ধেক ম্যাচ কমে গিয়েছে। আমি তো শুনেছি বেঙ্গালুরু এফসি ওদের ফুটবলারদের ২০ শতাংশ বেতন কম নেওয়ার কথা বলেছে। এফসি গোয়াও নাকি একই কথা বলেছে। তবে এর সত্যি মিথ্যে বলতে পারব না। ফুটবলাররা যদি খুশি মনে প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে তো ভালোই।"
উল্লেখ্য, লিগ আয়োজনের মোট খরচ ঠিক করা হয়েছে ২৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে এআইএফএফ দেবে ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। বাকি টাকা ক্লাবগুলি দেবে। লিগের স্বার্থে প্রতিটি ক্লাবই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হিসাবে ১ কোটি টাকার কিছু বেশি দিতে রাজি হয়েছে। সেই সঙ্গে হোম ম্যাচের খরচও তারা চালাবে। ফেডারেশন মূলত সেই টাকা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ম্যাচ সম্প্রচারে প্রোডাকশন খরচ দেবে। প্রোডাকশনের বাকি টাকা দেবে ক্লাবরা। ঠিক হয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতার জন্য একটা নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হবে। হবে নতুন একটা কমিটিও। যেখানে ক্লাব প্রতিনিধিরাই বেশি থাকবে। আর এই অ্যাকাউন্টেই আইএসএল চালানোর জন্য যাবতীয় টাকা জমা পড়বে।
উল্লেখ্য, এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফুটবলারদের কাছে ২৫ শতাংশ বেতন কম নেওয়ার অনুরোধ করেছে একাধিক ক্লাব। কারণ এবারের আইএসএলে গতবারের থেকে অনেক ম্যাচ কম হচ্ছে। তার উপর সম্প্রচার থেকেও এবার লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ব্রডকাস্টিং রাইটস থেকে ২৭৫ কোটি টাকার কিছু অংশ পেত আইএসএল ক্লাবগুলি। এবার তা পাওয়া যাবে না। সেই কারণে নিজেদের ঝুলি থেকে খরচ করতে হবে ক্লাবগুলিকে। এই পরিস্থিতিতে পুরো বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, যাঁদের বেতন ১ কোটি টাকার বেশি, তাঁদের ২৫ শতাংশ কম নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ১ কোটির কম বেতনভুক্ত ফুটবলারদের ১৫-২০ শতাংশ টাকা কম নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
