স্টাফ রিপোর্টার: আইএফএ-এর সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সৌরভ পাল। মঙ্গলবার সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ই-মেল করে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকালেই দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন তিনি। বিকালে ময়দান সাথী নামের সংস্থার পক্ষে সেই সাংবাদিক সম্মেলনেও সৌরভ জানিয়েছিলেন, পদের লোভে নয়, ফুটবলের স্বার্থে সাধারণ ফুটবলপ্রেমী হিসাবে ময়দানকে বেটিং আর ফিক্সিং থেকে মুক্ত রাখতে কোনও অবস্থাতেই প্রতিবাদ করা থেকে পিছিয়ে আসবেন না। এ-ও জানিয়েছিলেন, পকেটে পদত্যাগ পত্র নিয়েই ঘুরছেন। ময়দানের অনেকেই তাঁকে আইএফএ সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতে বারণ করছিলেন। বিকালের সাংবাদিক সম্মেলনে সৌরভ পাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইএফএ-র আরেক সহ-সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। এছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রশান্ত চক্রবর্তী, অনীত ঘোষ, নাসিম আখতার, রঞ্জন চৌধুরি সহ আইএফএর প্রাক্তন সহ সচিব নজরুল ইসলাম, রবীন ঘোষ সহ অন্যরা। সাংবাদিক সম্মেলনে রবীন ঘোষরা তুলে ধরেন একটি পুলিশি রিপোর্ট। যে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি ম্যাচের কথা। তার মধ্যে গত লিগের ইউনাইটেড কলকাতা বনাম উয়াড়ি অ্যাথলেটিক ক্লাবের ম্যাচটি রয়েছে। যে ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ গোল হজম করে উয়াড়ি। একইসঙ্গে এই সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সৌরভরা জানান, কলকাতা লিগের ছোট ছোট ক্লাবের একাধিক ম্যাচ চলাকালীন টেলিকাস্ট সমস্যা দেখা গিয়েছে। ঠিক যে সময়ে সমস্যার কারণে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখতে পাননি ফুটবলপ্রেমীরা, ঠিক সেই সময়েই একাধিক গোল হয়ে গিয়েছে ম্যাচগুলিতে। তাদের দেওয়া পুলিশি রিপোর্টের কপিতেও বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
এদিন স্বরূপ বিশ্বাস, সৌরভ পালরা সাংবাদিক সম্মেলনে এসেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা আইএফএ সহ-সভাপতির পদ থেকে নয়, সাধারণ ফুটবল প্রেমী হিসাবে এই সভাতে যোগ দিচ্ছেন। ডাফা নিউজকে কেন বারবার আইএফএ-র বিভিন্ন খেলায় দেখা যাচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। কয়েক বছর আগে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কলকাতা লিগ থেকে। এদিন স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, "আমরা কখনওই আইএফএ-র বিরোধী নই। বাঙালির আবেগের ফুটবল। সেই ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে তাই আমরা প্রতিবাদের পথ এসেছি। আপনাদের সামনে যে তথ্য প্রমাণ তুলে দিলাম তা কোর্ট থেকে আনতে সময় লাগল বলেই একটু দেরিতে এই সাংবাদিক সম্মেলন করতে হল।" সৌরভ পাল বলেন, "আমি পদের লোভী নই। গত ২৮ আগস্ট সাদার্ন কর্তা হিসাবে আইএফএ-কে ফিক্সিং সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়েছিলাম, সেই দিন সভা করে পুলিশকে জানালে আরও অপরাধীকে ধরতে পারত পুলিশ।" সৌরভের পদত্যাগ নিয়ে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, "ওঁর মনে হয়েছে পদত্যাগ করবেন। উনি সভাপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন। এরপর আলোচনা হবে।" তবে ম্যাচ ফিক্সিং রোধে আইএফএ যথেষ্টই সচেষ্ট বলে দাবি করেন আইএফএ সচিব। উনি মনে করেন যে পুলিশি রিপোর্ট নিয়ে সৌরভরা সাংবাদিক সম্মেলন করছেন আইএফএ সহ-সভাপতি হিসাবে ওঁর উচিত ছিল সেটা আগে আইএফএকে জমা দেওয়া।"
