কেবল জিতলেই হয় না, সে জয় ধরে রাখতে হয়। এ কথা অনেকখানি খেটে যায় ওয়েটলস জার্নির ক্ষেত্রে। মেদ ঝরানো নেহাত ছেলেখেলা নয়। অনেকেই রয়েছেন, যারা মাঝপথে ছাড়তে বাধ্য হন ডায়েটিং-যোগব্যায়াম। চেয়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না। তবে এমনও মানুষ রয়েছেন, যারা বহু কষ্টে মেদ ঝরিয়ে এক্কেবারে স্লিম হয়ে যান। চেনাপরিচিতরাই রীতিমতো হিংসে করে তাঁদের এই পরিবর্তন দেখে। কিন্তু তারপর? অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার যেই কে সেই! পুরনো মেদ (lost weight) যে কেবল ফিরে আসে, তাই নয়। ক্ষেত্রবিশেষে আগের চাইতেও বেড়ে যায়। সঙ্গে ফিরে আসে হীনম্মন্যতা, গ্লানি, আত্মবিশ্বাসের অভাব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ এমন কিছু ভুল (Weight Loss Mistakes) করে থাকেন, যার জন্য ঝরিয়ে ফেলা মেদ পুনরায় ফিরে আসে। কোন ধরনের ভুল? জেনে নেওয়া যাক।
দুই সপ্তাহে একদিন ‘চিট ডে’ রাখাই যায়, যেদিন পছন্দের খাবার খাবেন
১। ওজন কমানোর জন্য অনেকেই ফাস্ট ফুড একেবারে বাদ দিয়ে দেয় জীবন থেকে। কিন্তু ঈপ্সিত ওজন অর্জনের পর আচমকাই সমস্ত রকমের ফাস্ট ফুড খাওয়া শুরু করে আবারও। শরীরের তখন আর সেই অভ্যাস নেই, ফলে দ্রুত মেদ জমতে থাকে।
ফাস্ট ফুডের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই। দুই সপ্তাহে একদিন ‘চিট ডে’ রাখাই যায়, যেদিন পছন্দের খাবার খাবেন। এতে মাত্রাহীন ক্রেভিং কমানো যাবে।
২। অনেকেই সাধারণ রুটি-ভাত বাতিল করে দিয়ে প্রোটিন পাউডার বা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন মেদ ঝরানোর জন্য। এই ধরনের পাউডার কিছুদিন পর্যন্ত ওজন কমাতে সাহায্য করলেও, খাওয়া বন্ধ করলে হঠাৎ ওজন বেড়ে যায়।
ডায়েটেশিয়ানদের মতে, কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের চাইতে অরগানিক খাবারই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। পরিমাণ কমালেও খাদ্যতালিকায় থাক সবজি, ফল, দুধ।
৩। ঘুম ঠিকঠাক না হলে ওজন বাড়তে থাকে খুব দ্রুত। তাই যে সময় ডায়েট মেনে চলা সম্ভব হয় না, সে সময় খেয়াল রাখুন নিয়মিত ঘুমের দিকে।
৪। অ্যালকোহল বাদ রাখুন রোজের জীবনে। একান্ত ক্রেভিং হলে অবশ্যই মেপে খান। মেদ ঝরানোর আনন্দ যদি অ্যালকোহল পান করে উদযাপন করেন, তবে সমস্ত খাটনিই বৃথা হয়ে যায়।
ডায়েটেশিয়ানদের মতে, কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের চাইতে অরগানিক খাবারই প্রাধান্য পাওয়া উচিত
৫। নতুন ডায়েট শুরু করলে, অনেকেই সারাদিনের খাওয়ার রুটিন আমূল বদলে ফেলেন। আচমকাই খাদ্যের পরিমাণ অর্ধেকের কমে নামিয়ে আনেন। এতে মেদ ঝরে গেলেও, শরীরের এই নতুন নিয়ম অভ্যেস হয় না। ফলে কিছুদিন ছাড় পেলেই, শরীর ফিরে যেতে চায় পুরনো ওজনে।
যে কোনও পরিবর্তনের সঙ্গেই শরীর মনকে অভ্যাস করান ধীরে। অল্প অল্প করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। ব্যস্ত হলে চলবে না। শরীরকে অতিরিক্ত কষ্ট দিলেও চলবে না। বরং মেদ ঝরানোর প্ল্যানে থাকুক চিট মিল থেকে পর্যাপ্ত ঘুম পর্যন্ত সবটুকু। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নিয়ে নয়, মেদ ঝরানোর যাত্রায় সামিল হন খুশি মনে।
