সকাল ঘুম ভাঙতেই ভীষণ ক্লান্ত লাগে? কেবল শরীর নয়, মনও অবসন্ন লাগে। সারাদিন কী কী করতে হবে, ভাবতে বসা যায় যখন, মনে হয় যেন একই কাজ করে চলেছেন অনন্তকাল ধরে। একই খাবার খাচ্ছেন, একই পোশাক পরছেন, একই কথা বলে চলেছেন। চূড়ান্ত অবসাদ গ্রাস করতে আসে সামগ্রিকভাবে। হতে পারে, আপনি ‘বার্ন আউট’-এর (burn out) শিকার। প্রদীপের সলতে যেমন জ্বলতে জ্বলতে নিঃশেষ হয়ে যায়, মানুষের ক্ষেত্রেও তেমনই। কর্মক্ষেত্র অথবা সংসারের ক্লান্তি অন্তর থেকে সবটুকু নিংড়ে নেয় কোনও এক পর্যায়ে।
এমনটা হয়ে থাকলে, সচেতন হওয়া জরুরি। কিন্তু কীকরে বুঝবেন ‘বার্ন আউট’ হয়েছে কি-না? রইল বোঝার উপায়।
সারাদিন কী কী করতে হবে, ভাবতে বসা যায় যখন, মনে হয় যেন একই কাজ করে চলেছেন অনন্তকাল ধরে
১। হয়তো আপনি এমন একজন মানুষ, যে সকলের কষ্টেই সমব্যথী হন। কিন্তু আজকাল আর কারও কথাই শুনতে ইচ্ছে করছে না। প্রিয়জনদের সঙ্গ আনন্দ দেওয়ার বদলে ক্লান্তিকর ঠেকছে যেন।
২। কোনও রকম সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভাবলেই ক্লান্ত লাগছে। কী রান্না করতে হবে বা অফিসের কোনও মেইলের উত্তরে কী লিখবেন, সেটুকু ভাবনা করতেও ইচ্ছে করছে না। বরং মনে হচ্ছে, যা খুশি হোক গে!
৩। সকালে উঠতে হবে, তবু রাতে শুয়ে দীর্ঘ সময় ফোন স্ক্রোল করছেন। সারাদিন যা যা করতে হয়েছে, সবটুকুই বাধ্য হয়ে। তাই দিনশেষের এইটুকু সময় নিজের মতো কাটিয়ে, সবটুকু পুষিয়ে নিতে চাইছেন।
৪। সহজে বিরক্ত হচ্ছেন। কখনও কখনও রাগ-দুঃখ-আনন্দ কিছুই যেন অনুভব করতে পারছেন না ঠিকমতো। আর একটু পরেই সোমবার হয়ে যাবে ভেবে রবিবার সারাদিন অস্বস্তিতে ভুগছেন।
৫। শরীর জুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে তার লক্ষ্মণ। ঘাড়ের যন্ত্রণা, মাথা ভার, হজমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। রাতের পর রাত ঘুম হচ্ছে না।
জোর করে হলেও পছন্দের কাজের জন্য সময় বের করুন
কী করা যায় ‘বার্ন আউট’ আটকাতে?
কেবলমাত্র এক-দুদিনের ছুটি নেওয়া এক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকরী হবে না। ঠিক কোন কাজ থেকে এই ধরনের বিরক্তি তৈরি হচ্ছে, তা খেয়াল করুন। জোর করে হলেও পছন্দের কাজের জন্য সময় বের করুন। যদি অফিসের কারণে হয়ে থাকে, তবে দরকারে অফিস বদলানোর কথা ভাবুন। বাড়ির কাজের কারণে হলে, কী করে কাজ কমানো যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করুন। কথা বলুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। প্রয়োজনে পরামর্শ নিন মনোবিদের। মনে রাখবেন, দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে স্থায়ী মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
