বয়স ৫৫, তবু ফিটনেস ও এনার্জিতে এখনও অনেক তরুণকে টেক্কা দিতে পারেন অভিনেতা আর. মাধবন (R. Madhavan)। পর্দায় তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ফিটনেসও আলোচনার বিষয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সুস্থ ও ফিট থাকার রহস্য ফাঁস করলেন মাধবন (R Madhavan Fitness Secret)। ব্রেকফাস্ট বা প্রাতঃরাশে তিনি নিয়মিত খান দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী পদ কাঞ্জি।
মাধবনের কথায়, অতি সাধারণ অথচ পুষ্টিকর এই খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখে, পেট ভরায় এবং মনকেও রাখে স্ট্রেস ফ্রি। অনেকেই সকালে ভারি বা প্রক্রিয়াজাত চটজলদি কোনও খাবার বেছে নেন, কিন্তু তিনি মনে করেন কাঞ্জি হালকা খাবার হলেও শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তির জোগান দেয়। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঞ্জিকে ভরসা করা যায়।
অভিনেতা মাধবন। ছবি: সংগৃহীত
কাঞ্জি আসলে কী?
সারারাত ভাতকে জলে ফারমেন্ট বা গাঁজানো হয়। এই ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার ফলে ভাতের পুষ্টিগুণ বাড়ে এবং আসে হালকা টক স্বাদ। পরেরদিন সকালে সেই গাঁজানো ভাতের সঙ্গে দই, নুন, কুচোনো কাঁচালঙ্কা, পুদিনা পাতা, পেঁয়াজ ইত্যাদি মেশানো হয়। এরপর ঘি, জিরে, হিং, কারিপাতা ইত্য়াদি দিয়ে হালকা ফোড়ন দেওয়া হয়। এই সব উপাদান মিশিয়ে তৈরি হয় একেবারে সহজ কিন্তু সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি খাবার। মাধবনের কথায়, 'এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে, পেট ভরায় এবং মনকে শান্ত করে।' তবে মজার বিষয়, কাঞ্জি খাওয়ার পর কখনও কখনও এতটাই আরাম অনুভূত হয় যে, একটু ঘুম ঘুম ভাবও আসে।
হজমে উপকারী
গাঁজানো হওয়ায় কাঞ্জিতে থাকে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে হজমশক্তি ভালো হয়, গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমে এবং পুষ্টির শোষণও ভালো হয়।
বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
কাঞ্জিতে থাকা প্রোবায়োটিক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ভিটামিন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে সংক্রমণ ও মরশুমি অসুখের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
ডিটক্সে সহায়তা
ফারমেন্টেড খাবারে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি লিভারের কাজেও সহায়তা করে, ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে সুবিধা হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
কম ক্যালরি কিন্তু পেট ভরানো খাবার হওয়ায় কাঞ্জি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য় করে। এটি দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয়, ফলে অকারণে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী খাবার কাঞ্জি। ছবি: সংগৃহীত
ত্বকের জন্যও উপকারী
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক শরীরে প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত পরিষ্কারে সাহায্য করে। এতে ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা কমে এবং ত্বক উজ্জ্বল থাকতে পারে।
হার্ট ও শরীরের হাইড্রেশনে সাহায্য
কাঞ্জি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এতে থাকা কিছু উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে, রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে এবং প্রদাহ উপশমে সহায়তা করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই সূচক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে যাঁরা ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে।
মাধবনের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সব সময় জটিল ডায়েটের দরকার নেই। অনেক সময় আমাদের ঐতিহ্যবাহী, সহজ খাবারই শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী হতে পারে—কাঞ্জি তারই একটি উদাহরণ।
